


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া বইলেও ভাগ্য এখনও পুরোপুরি বদলায়নি জঙ্গিপুর পুরসভার বাসিন্দাদের। রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের যাঁতাকলে পড়ে বর্তমানে একপ্রকার পরিষেবাহীন এই পুরসভা। পানীয় জল থেকে সাফাই, প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিষেবা এখনও তলানিতে। দীর্ঘদিনের টালবাহানায় ক্ষুব্ধ শহরবাসীর এখন একটাই দাবি, আর রাজনীতি নয়, এবার পরিষেবা চালু হোক। বর্তমানে অধিকাংশ ওয়ার্ডে পরিস্রুত পানীয়জল পৌছায় না। জল প্রকল্পের কাজ চলছে। শীঘ্রই ঘরে ঘরে পানীয়জল পৌঁছে দেওয়া হবে বলে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, শহরের ২১টি ওয়ার্ডের তিনটি জোনে জোরকদমে কাজ চলছে। জলের কানেকশনও দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই জল পরিষেবা পৌঁছে যাবে।
জঙ্গিপুরে নাগরিক দুর্ভোগের নেপথ্যে বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসের জাকির হোসেন এবং পুর চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলামের তীব্র বিরোধ। বিধায়কের অনুগামীদের অভিযোগ ছিল, চেয়ারম্যানের উদাসীনতায় শহর শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। অভিযোগের পাহাড় জমা হয় পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দপ্তর মফিজুল ইসলামকে সরিয়ে মহকুমা শাসক সুধীরকুমার রেড্ডিকে পুরসভার দায়িত্ব দেয়। কিন্তু তাতেও জট কাটেনি। চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন মফিজুলপন্থী এক কাউন্সিলার। সেই আইনি লড়াইয়ের জল গড়িয়েছে বহুদূর। আদালতের নির্দেশে ফের মফিজুল ইসলাম পুর চেয়ারম্যান পদে ফিরে এলেও বাস্তবে তার সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে ছিল ফাইলে সই থেকে শুরু করে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি।
একাধিক ওয়ার্ডে দীর্ঘ সময় ধরে মিলছে না পরিস্রুত পানীয় জল। পুরসভার ১, ২, ৩, ৪, ৭, ৮, ১৪, ১৫, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বিগত কয়েক বছর ধরে জল আসে না। পাড়ার মোড়ে মোড়ে কিংবা রাস্তার ধারে উপচে পড়ছে আবর্জনা। নিয়মিত সাফাই না হওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়, বাড়ছে মশার উপদ্রব। সামান্য বৃষ্টিতেই নর্দমার নোংরা জল রাস্তায় উঠে আসছে। নিকাশি নালা সংস্কারের কাজ দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ। জঙ্গিপুরের বাসিন্দা সুমন দাস, রমা দাস, রবিউল ইসলাম, বাপি শেখ সকলের অভিযোগ কার্যত একই— আমরা ট্যাক্স দিই পরিষেবার আশায়, নেতাদের লড়াই দেখার জন্য নয়। আমরা পরিষেবা চাই।
ইতিপূর্বে একাধিকবার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে সরব হন জাকির হোসেন। অপরদিকে, বিধায়ক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে পুরসভায় কাজ না করতে দেওয়ার পাল্টা অভিযোগ আনেন মফিজুল ইসলাম। জঙ্গিপুরের বিধায়ক জাকির হোসেন পরাজিত হয়েছেন।
পুরসভা এখন কার দখলে বা কার অঙ্গুলি হেলনে চলবে, সেই তর্কে যখন রাজনৈতিক মহল সরগরম, তখন জঙ্গিপুরের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। এখন দেখার, মানুষের দাবি মেনে দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক হয় কি না।