সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না জঙ্গিপুর পুরসভার। চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সভা ডাকতে ব্যর্থ হওয়ায়, বৃহস্পতিবার পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা সভা আহ্বান করলেন উপ পুরপ্রধান সন্তোষ চৌধুরী। আগামী সোমবার এই অনাস্থা সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে এ দিন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। যদিও এই অনাস্থা সভায় চেয়ারম্যান অংশ নেবেন না বলে আগেই ঘোষণা করেছেন। যদিও সরকারি গাড়ি জমা করব বললেও করেননি। এমনকি পদ থেকে ইস্তফাও দেননি।
এ প্রসঙ্গে পুরপ্রধান মফিজুল ইসলাম বলেন, আমি দু’-একদিনের মধ্যেই ইস্তফা দিয়ে দেব। এই পুরপ্রতিনিধিদের নিয়ে আর রাজনীতি করব না। মফিজুল ইসলাম আরও বলেন, আমি দিদির সঙ্গে আছি, তাঁর সঙ্গেই থাকব।
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান মফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলেরই ১১ জন পুর প্রতিনিধি অনাস্থার নোটিস জমা দেন। পুর আইন অনুযায়ী, নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে চেয়ারম্যানকে সভা ডেকে আস্থা ভোট নিতে হয়। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে সভা না ডাকায়, পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সভা ডাকার আইনি এক্তিয়ার যায় উপ পুরপ্রধানের হাতে। সেই নিয়ম মেনেই সন্তোষবাবু সভার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। ২১ আসনের জঙ্গিপুর পুরসভা তৃণমূলের দখলেই রয়েছে। তবে পুর বোর্ড গঠনের পর থেকেই শুরু হয়েছিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। একসময়ের বিধায়ক জাকির হোসেনের সঙ্গে পুরকর্তাদের বিবাদ তুঙ্গে ওঠে। পরবর্তীতে জাকির অনুগত পুর প্রতিনিধিরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন। তৎকালীন সময়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই অনাস্থা স্থগিত করা হলেও জল অনেক দূর গড়ায়। পুর বোর্ড ভেঙে দিয়ে মহকুমা শাসককে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে প্রশাসক পদ বাতিল হয়ে পুনর্বহাল হয় সেই ভেঙে যাওয়া তৃণমূল পুর বোর্ডই।
তবে রাজ্যে পালাবদল এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে জাকির হোসেন পরাজিত হলেও জঙ্গিপুরে ঘাসফুল শিবিরের অন্তর্কোন্দলে যে দাঁড়ি পড়েনি, তা এই জলঘোলাতেই পরিষ্কার। মফিজুল নিজেকে কালীঘাটপন্থী বলে দাবি করছেন। অন্যদিকে, উপ পুরপ্রধান সন্তোষ চৌধুরী বলেন, চেয়ারম্যানের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে। নিয়ম অনুয়ায়ী আমি নোটিস জারি করেছি। সোমবার অনাস্থা সভা হবে।