নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শৈশবে বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শ্রমিকের কাজ করতে হয়েছে। আর্থিক অনটনকে জয় করে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের দুই যুবতী ইস্টবেঙ্গলের মহিলা ফুটবল দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। বর্তমানে দু’জনে কল্যাণী স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। শীঘ্রই লাল-হলুদ জার্সিতে তাঁরা ময়দান কাঁপাবেন বলে এলাকাবাসীর বিশ্বাস।
রানিবাঁধের রুদরা গ্রামের বাসিন্দা প্রতিমা বাগদি ১৩ বছর বয়স থেকে ফুটবল খেলছেন। বাবার মৃত্যুর পর অভাব প্রতিমার নিত্যসঙ্গী। সংসারের হাল ধরতে তাঁর দাদাকে বাইরে শ্রমিকের কাজ করতে যেতে হয়। প্রতিমা মায়ের সঙ্গে সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি ফুটবল খেলাও চালিয়ে যান। বছর আঠারোর ওই যুবতী গ্রামে ও দুর্গাপুরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। রাজ্যস্তরে কন্যাশ্রী কাপ ফুটবল লিগ চলার সময় ইস্ট বেঙ্গল ক্লাবের কর্তাদের নজরে পড়েন। প্রতিমা বলেন, এক মাস ট্রায়ালে ছিলাম। গত এপ্রিল মাস থেকে তা চলেছে। তাতে উতরে যাওয়ার পর কল্যাণী স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ চলছে। দ্রুত আমরা ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে মাঠে নামব। সারেঙ্গার কুলডিহা গ্রামের বাসিন্দা রিয়া দুলেও শৈশবে বাবাকে হারিয়েছেন। বছর পঁচিশের রিয়া সিভিক ভলান্টিয়ারের কাজ পেয়েছেন। কাজ সামলে তিনি প্রথমে ছাতনার দুমদুমিতে এক মহিলা কোচের কাছে প্রশিক্ষণ নেন। রিয়া বলেন, ছাতনায় কোচিং নেওয়ার পর কলকাতায় গিয়েছিলাম। প্রথমে সুরুচি সংঘ ও পরে পুলিশ অ্যাথেলেটিক ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছি। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আমরা মোট ১২ জন ইস্ট বেঙ্গলে ট্রায়াল দিয়েছিলাম। তারমধ্যে আমি সুযোগ পাই। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমিও কল্যাণীর প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিই। সেখানেই বর্তমানে থাকছি।
বাঁকুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী সভাপতি সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, চেষ্টা ও একাগ্রতা থাকলে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও যে কলকাতার বড়ো ক্লাবে খেলার সুযোগ পাওয়া যায়, তা রিয়া ও প্রতিমা দেখিয়ে দিয়েছেন। জঙ্গলমহলের ওই দুই তরুণীকে দেখে বাকিরাও উৎসাহিত হবে। আগামী দিনে জেলার সামগ্রিক খেলাধুলোর উন্নতিতে আমরা কাজ করব।