Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘জন-ভাগিদারী’ প্রকল্প: আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে গ্রামে গ্রামে যাবে প্রশাসন

আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে জেলাজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

‘জন-ভাগিদারী’ প্রকল্প: আদিবাসীদের সমস্যা সমাধানে গ্রামে গ্রামে যাবে প্রশাসন
  • ১৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলায় আজ থেকে আদিবাসীদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এর নাম ‘জন ভাগীদারি– সবসে দূর, সবসে পহেলে’। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে জেলাজুড়ে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বাংলায় প্রথমবার কেন্দ্রের এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

Advertisement

আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ শিবিরের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। নদীয়া জেলার পাঁচটি ব্লকের ন’টি আদিবাসী অধ্যুষিত পঞ্চায়েতকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। কৃষ্ণনগর ১ ও ২, কৃষ্ণগঞ্জ, নাকাশিপাড়া এবং চাকদহ ব্লকে পর্যায়ক্রমে এই শিবির হবে।
জেলা প্রশাসনের দাবি, বহু ক্ষেত্রেই প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। অনেকের জাতিগত শংসাপত্র নেই। আবার অনেকে বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র তৈরি করতে সমস্যায় পড়েন। স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প বা সরকারি সহায়তা বহু ক্ষেত্রেই এধরনের গ্রামে পৌঁছায় না। সেই সমস্যা দূর করতে এবার জন ভাগীদারি কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি গ্রামে গিয়ে পরিষেবা দেওয়া হবে।
জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লী বলেন, আমরা পাঁচটি ব্লকের ন’টি আদিবাসী গ্রামকে চিহ্নিত করেছি। সেখানে গিয়ে আদিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কেন্দ্রের এই কর্মসূচি এই প্রথমবার রাজ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
প্রতিটি শিবিরে একাধিক সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। জাতিগত শংসাপত্র, আধার-সংক্রান্ত বিষয়, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা-সংক্রান্ত সহায়তা সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাও খতিয়ে দেখা হবে। এই কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সাধারণ রোগ নির্ণয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকবে। শিশু ও মহিলাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই শিবির আয়োজনের জন্য একাধিক জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। নাকাশিপাড়ার মিরাইপুর আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণনগর-২ ব্লকের দলিমৌলা ঝিটকিপোতা আদিবাসী প্রাথমিক স্কুল, কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বাঘাডাঙা কাপাসডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ নানা জায়গায় এই শিবির বসবে। কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের পুনেচাঁদপুর জুনিয়র হাইস্কুল এবং চাকদহ ব্লকের মাহানালা আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বিশেষ শিবির হবে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের ফলে বহু আদিবাসী পরিবার প্রথমবার সরকারি পরিষেবার আওতায় আসবেন। সরকারি দপ্তর এবং আদিবাসী সমাজের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ