ছাত্রভোটের আশ্বাসের পরও দিনভর উত্তপ্ত জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ছাত্রভোটের প্রতিশ্রুতির পরও সোমবার দিনভর উত্তপ্ত রইল জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। দফায় দফায় আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াল পড়ুয়ারা। সোমবারই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদন হওয়ার ১৫ দিন পর ভোট অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, বিক্ষোভরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে জারি করা যাবতীয় শো-কজ ও সাসপেনশন নোটিস প্রত্যাহার করা হবে। নিরাপত্তা কর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে একটি সিট গঠন করা হবে। তবে নোটিসে ছাত্র ভোটের কোনো ডেডলাইন ঘোষণা না করায় নতুন করে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়। 

Advertisement

ছাত্র সংসদ গঠনের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছিল জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেন চার পড়ুয়া। রবিবার ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তারপরেই পড়ুয়াদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও চিফ প্রোক্টরের পদত্যাগ নিয়ে কোনো আশ্বাস না থাকা সহ অন্যান্য ইস্যুতে দুই পড়ুয়া অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের কথায়, ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি। ফলে কবে ভোট হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। রেহান খান নামে এক অনশনরত পড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য এই নোটিস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদি ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সংবিধানের খসড়া তৈরি হয়েও যায়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা মেনে নেবেন এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’  বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে দেওয়া এই নোটিসে আরও বলা হয়েছে, ‘এই নির্দেশের পরেই আন্দোলন প্রত্যাহার করতে হবে।’ পাশাপাশি শর্ত চাপানো হয়েছে, ‘আন্দোলন চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে করা যাবতীয় অপমানজনক বিবৃতি, কর্মকাণ্ড ও পোস্টের জন্য সাংবাদিক বৈঠক ডেকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে হবে। এই ধরনের যাবতীয় পোস্ট মুছে ফেলতে হবে।’ যা ঘিরেও বিতর্ক ছড়িয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ থাকবে। লাইব্রেরি, ক্যান্টিনও ব্যবহার করতে পারবেন না পড়ুয়ারা।
অন্যদিকে রবিবারই অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার অভিযোগে কংগ্রেস সাংসদ ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মহম্মদ মহতাব আলম রিজভি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভাঙা, পাঁচিল টপকে প্রবেশ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুর সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।