


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিজেপি কার্যালয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ। ঘটনায় অভিযুক্ত গেরুয়া শিবিরেরই এক কর্মী। জলপাইগুড়ির বিবেকানন্দপল্লি এলাকার এ ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন ছড়িয়েছে। অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয়রা। নিতাই রায় নামে ওই বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মহিলাকে ভর্তি করা হয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। বিধানসভা ভোটের মুখে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অস্বস্তিতে পদ্ম পার্টি। ধৃতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলের কর্মীরা। একইসঙ্গে তদন্তের স্বার্থে জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া পঞ্চায়েতের বিবেকানন্দপল্লি এলাকায় অবস্থিত বিজেপির ওই কার্যালয় ‘সিল’ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তৃণমূল কর্মীরা।
ঘটনার পর বিজেপির তরফে প্রথমে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের দলের কর্মী নয়। রাতে পার্টি অফিস পাহারা দেওয়ার জন্য থাকত সে। যদিও পরে বয়ান বদলে পদ্ম নেতাদের দাবি, অভিযুক্ত বিজেপি কর্মী হলেও ঘটনাটি মোটেই তাদের পার্টি অফিসের ভিতরে ঘটেনি। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতে পেশ করা হয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে মহিলাকে।
অভিযোগ, ২ মার্চ মধ্যরাতে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলাকে বিবেকানন্দপল্লি এলাকায় বিজেপি পার্টি অফিসের ভিতরে ধর্ষণ করা হয়। মহিলার চিৎকার শুনে এলাকার কয়েকজন বাইরে বেরিয়ে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরেন। এরপরই খবর দেওয়া হয় থানায়। পুলিশ এলে ওই বিজেপি কর্মীকে তাদের হাতে তুলে দেন বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে একজন থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব খড়িয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মনোজ ঘোষ। ঘৃণ্য এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীদের চরিত্র আরো একবার স্পষ্ট হয়ে গেল বলে তোপ তাঁর। যদিও এতবড় ঘটনা ঘটলেও তাঁর কিছু জানা নেই বলে বলে মন্তব্য বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের। এদিন তিনি বলেন, এবিষয়ে কিছু বলতে পারব না। আমার পরিবারে একজন মারা গিয়েছে, তা নিয়ে ব্যস্ত আছি।
যদিও জলপাইগুড়ি জেলা বিজেপির মিডিয়া সেলের ইনচার্জ জীবেশ দাসের দাবি, বিজেপি পার্টি অফিসের ভিতরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে রটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমি নিজে খোঁজ নিয়েছি। পার্টি অফিসের ভিতরে কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযুক্ত যুবক বিজেপি কর্মী কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে গেরুয়া শিবিরের জেলার মিডিয়া ইনচার্জের সাফাই, বিজেপি কর্মী হতে পারে। কিন্তু আমি তাকে চিনি না। বিবেকানন্দপল্লি এলাকায় আমাদের দলের পঞ্চায়েত সদস্য রয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণে অনেকে ঝাঁকের কইয়ের মতো দলে নাম লেখাতে পারে। তবে আমরা কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই না। ওই ব্যক্তি যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হবে। • এই পার্টি অফিসেই ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। - নিজস্ব চিত্র।