Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, উদ্বেগে আত্মঘাতী

চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ। আর এরই জেরে উদ্বেগে আত্মঘাতী হলেন এক বৃদ্ধ। মৃতের নাম গৌরাঙ্গ দে (৬২)। তিনি জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন।

জলপাইগুড়ি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ, উদ্বেগে আত্মঘাতী
  • ৫ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ। আর এরই জেরে উদ্বেগে আত্মঘাতী হলেন এক বৃদ্ধ। মৃতের নাম গৌরাঙ্গ দে (৬২)। তিনি জলপাইগুড়ি শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ছিলেন। পরিবারের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগে আত্মহননের পথ বেছে নেন ওই বৃদ্ধ। মঙ্গলবার সকালে ভাড়াবাড়িতে শৌচালয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সদর হাসপাতালের মর্গে দেহের ময়নাতদন্ত হয়। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্তে নেমেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে যান জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। এঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেন তিনি।

Advertisement

ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মানসী বিশ্বাস রায় বলেন, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। ওই বৃদ্ধ শহরের আশ্রমপাড়া এলাকায় একটি মোমোর দোকান চালাতেন। তাঁর ছেলে অন্য একটি দোকানে কাজ করেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু এসআইআরের কারণে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বাদ পড়ায় খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আগেরদিনই ৬ নম্বর ফর্ম ফিলআপ করেন। তারপরও এমন দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গেল।
পরিবার সূত্রে খবর, শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হলেও ওই বৃদ্ধ বর্তমানে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন নয়াবস্তি এলাকায় একটি বাড়িতে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। স্ত্রী পপি দে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী ভোট দিয়ে আসছেন। কিন্তু কোনো কারণে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। সেকারণে তাঁকে এসআইআরে নোটিস ধরানো হয়। হিয়ারিংয়ে হাজির হয়ে সমস্ত নথি জমা করেন। কিন্তু তারপরও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের নামে ডিলিট লেখা থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ভোটার তালিকায় আদৌও আর নাম উঠবে কি না, তা নিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। আমরা বাড়িতে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। নতুন করে নাম তোলার জন্য ফর্ম ফিলআপও করেছিলেন। তারপরও যে এমন একটা ঘটিয়ে ফেলবেন, আমরা তা কোনোভাবেই বুঝতে পারিনি।
পুর চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম কেটে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই মৃত্যুর জন্য পুরোপুরি কমিশন দায়ী। • মৃত গৌরাঙ্গ দের বাড়িতে পুর চেয়ারম্যান। - নিজস্ব চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ