নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পুরসভায় ডামাডোল। আর এরই জেরে কার্যত লাটে কর্মসংস্কৃতি। অভিযোগ, সময়ে অফিসে আসছেন না বহু কর্মী। প্রতিদিনই যে কিছু কর্মী সময়ের অনেক পরে হেলতে দুলতে অফিসে আসছেন তা স্বীকারও করে নিয়েছেন পুরসভার আধিকারিকরা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পুরসভায় ডামাডোল। আর এরই জেরে কার্যত লাটে কর্মসংস্কৃতি। অভিযোগ, সময়ে অফিসে আসছেন না বহু কর্মী। প্রতিদিনই যে কিছু কর্মী সময়ের অনেক পরে হেলতে দুলতে অফিসে আসছেন তা স্বীকারও করে নিয়েছেন পুরসভার আধিকারিকরা।
দীর্ঘদিন ধরে জলপাইগুড়ি পুরসভায় বায়োমেট্রিক মেশিন খারাপ। ফলে মান্ধাতা আমলের মতো কর্মীরা রেজিস্টারে সই করেন। অভিযোগ, কর্মীদের একাংশ এতদিন দেরিতে অফিসে ঢুকেও সই করে নিজের মতো সময় বসিয়ে দিতেন। এটাই জলপাইগুড়ি পুরসভার ক্ষেত্রে অলিখিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ১০টার মধ্যে অফিসে ঢোকার কথা থাকলেও দেখা যেত, বেলা ১১টাতেও বেশিরভাগ টেবিল ফাঁকা। সেক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি ছিল, অনেকের ফিল্ডে কাজ থাকে। কারও কারও আবার বক্তব্য ছিল, বিকেল পাঁচটার পরও অফিসে থাকতে হয়। মাঝে এনিয়ে কিছুদিন কড়াকড়ি হলেও পুরসভায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে একাংশ কর্মী আবারও দেরিতে অফিসে ঢুকছেন বলে অভিযোগ। বেলা সাড়ে ১১টাতেও পুরসভায় গিয়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক সেকশনেই কিছু কর্মীর চেয়ার ফাঁকা। রাজ্যের বর্তমান সরকার যেখানে কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর উপর বিশেষ জোর দিয়েছে, সেখানে জলপাইগুড়ি পুরসভায় কর্মীদের একাংশের সময়ে অফিসে আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও তাঁদের বক্তব্য, জনগণনার কাজ করতে হচ্ছে। ওই কাজ সেরে সবদিন সকাল ১০টার মধ্যে পুরসভায় ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না।
কর্মীদের একাংশের সময়ে অফিসে না আসা নিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র বলেন, এটা ঠিক, কিছু কর্মী সময়ের পরে অফিসে ঢুকছেন। তবে এনিয়ে কড়াকড়ি করা হয়েছে। রেজিস্টার আমার ঘরে রেখেছি। সেখানে এসেই সবাইকে সই করতে হবে। তাঁর সংযোজন, যাঁরা জনগণনার কাজ করছেন তাঁদের বলা হয়েছে, সকাল ১০টা থেকে এক ঘণ্টা ওই কাজ করে ১১টার মধ্যে অফিসে ঢুকতে হবে। বিকেল ৪টে পর্যন্ত অফিস করে আবার এক ঘণ্টা তাঁরা জনগণনার কাজ করতে পারবেন। কোনো কর্মী বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের পর এলে লাল কালি দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বায়োমেট্রিক মেশিন দীর্ঘদিন খারাপ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে জলপাইগুড়ি পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, আমাদের অফিসে দেড়শোর বেশি কর্মী রয়েছেন। বিষয়টি রাজ্যের বর্তমান সরকারকে জানানো হয়েছে। আশাকরি, শীঘ্রই কিছু একটা ব্যবস্থা হবে।