নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিনেও জলপাইগুড়ি পুরসভায় এলেন না চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। অনাস্থা আনার পর থেকে গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পুরসভায় আসছেন না তিনি। ফলে অন্যদিনের মতো এদিনও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাসিন্দারা নানা দরকারে পুরসভায় এসেও চেয়ারম্যানের দেখা না পেয়ে ফিরে যান। এঘটনায় বাসিন্দাদের ক্ষোভ বাড়ছে। এদিকে, অনাস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক ডেকে আস্থা প্রমাণের জন্য চেয়ারম্যানের হাতে সময় আর তিন দিন।
১৩ আগস্টের মধ্যে তিনি যদি বৈঠক না ডাকেন, সেক্ষেত্রে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে বৈঠক ডাকতে হবে ভাইস চেয়ারম্যান দীনেশ রাউতকে। কিন্তু তিনি আদৌও এখন কোন শিবিরে আছেন, তা নিয়েই ধন্দ। কারণ, সন্দীপ মাহাতকে সরিয়ে দীনেশকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হলেও তিনি এখনও পর্যন্ত পুরসভায় এসে কাজ শুরু করেননি। এসব নিয়ে অবশ্য মন্তব্য করতে চাননি পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান এদিন অফিসে এসেছিলেন কি না বলতে পারব না। আমার সঙ্গে দেখা হয়নি। এই আবহে আজ, মঙ্গলবার পেনশনের দাবিতে পুরসভায় বিক্ষোভ দেখানোর কথা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের। তাঁদের সঙ্গে বিক্ষোভে শামিল হতে পারেন অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা।
এদিন সকাল ১১টায় জলপাইগুড়ি পুরসভায় গিয়ে দেখা যায়, চেয়ারম্যানের চেম্বার বন্ধ। কোনো কর্মী না থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যানের চেম্বারের বাইরে দু’টি ফ্যান ঘুরছে। যা নিয়ে পুরসভায় আসা লোকজনের অনেকে আপত্তি তোলেন। সাড়ে ১১টা নাগাদ পুরসভায় আসেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বনি বেগম। সার্টিফিকেটের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘুরছেন তিনি। জিজ্ঞেস করতেই বললেন, কর্মী-আধিকারিকরা এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরাচ্ছেন। চেয়ারম্যানেরও দেখা পাচ্ছি না।
পুরসভায় বায়োমেট্রিক মেশিন খারাপ। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কর্মীদের একাংশের হেলতে দুলতে অফিসে ঢোকার ট্রাডিশন অব্যাহত।। এদিনও বেশ কয়েকজন কর্মীকে সাড়ে ১১টার পর অফিসে ঢুকতে দেখা যায়। যদিও পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসারের দাবি, দেরিতে আসা কঁরীদের ক্ষেত্রে রেজিস্টারে লাল কালি দেওয়া হচ্ছে। বায়োমেট্রিক মেশিন খারাপ থাকার বিষয়টি পুরদপ্তরে জানানো হয়েছে। এদিকে, পুরসভার আবর্জনার মধ্যে এদিন পুরনো কিছু সরকারি বিজ্ঞপ্তি, চিঠি ও লেটার প্যাড পড়ে থাকতে দেখা যায়। এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।