


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: বিচার বিভাগের পর এবার মানচিত্র। ফের পাঠ্য বই বিতর্কে হিমশিম খাচ্ছে এনসিইআরটি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, বিতর্কের পুরোটাই একটিই বইকে কেন্দ্র করে! ক্লাস এইটের সোশ্যাল সায়েন্সের পাঠ্য পুস্তকের পার্ট-টু বিচার বিভাগ সম্পর্কিত বিতর্কে সম্পূর্ণ বাতিল করতে হয়েছে এনসিইআরটিকে। ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি—ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক অষ্টম শ্রেণির সেই সোশ্যাল সায়েন্স বইয়ের পার্ট ওয়ানে এবার তুঙ্গে উঠেছে মানচিত্র বিতর্ক। অভিযোগ, অষ্টম শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে মানচিত্র ব্যবহার করে দাবি করা হয়েছে, এককালে মারাঠা সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল রাজস্থানের প্রিন্সলি স্টেট জয়সলমির। এবিষয়ে বিতর্ক চরমে উঠতেই বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে দিয়েছে এনসিইআরটি। সংশোধিত পাঠ্য পুস্তক এবং ডিজিটাল মাধ্যমের কোথাও ওই মানচিত্রের আর ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু বারবার কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এনসিইআরটিতে? প্রতিবারই বিতর্কের জেরে সংশোধনী প্রকাশের বন্দোবস্ত করতে হচ্ছে তাদের। এহেন ঘটনায় আদতে কেন্দ্রের মোদি সরকারেরই মুখ পুড়ছে বলে মনে করছে শিক্ষা বিশেষজ্ঞ মহল।
জানা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট বইয়ের ইউনিট থ্রিয়ের ৭১ নম্বর পাতায় ওই বিতর্কিত মানচিত্রের ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৭৫৯ সালে সারা দেশে মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রভাব এবং বিস্তার বোঝানোর উদ্দেশ্যেই সংশ্লিষ্ট ম্যাপ ক্লাস এইটের বইয়ে প্রকাশ করেছিল এনসিইআরটি। তা প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামে জয়সলমির রাজপরিবারের বর্তমান সদস্যরা। জয়সলমিরের ৪৪তম মহারাওয়াল চৈতন্য রাজ সিং ভাটির অভিযোগ, সোশ্যাল সায়েন্স বইয়ে যে মানচিত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তিই নেই। প্রিন্সলি স্টেট অব জয়সলমির কোনোদিনই মারাঠা সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল না। মারাঠারা কখনোই এখানে কোনো আগ্রাসন দেখায়নি। ইতিহাসের তথ্য বিকৃত করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি নিয়ে জয়সলমির রাজপরিবারের ওই সদস্য যোগাযোগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে। অবিলম্বে তাঁকে এবিষয়ে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেন। তার পরেই এনিয়ে সরকারি স্তরে নাড়াচাড়া শুরু হয়। শেষমেশ ওই বিতর্কিত মানচিত্র সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে এনসিইআরটি।
উল্লেখ্য, ক্লাস এইটের এই সোশ্যাল সায়েন্স বইয়ের অন্য পার্টে এনসিইআরটি উল্লেখ করেছিল যে, দেশের বিচার ব্যবস্থার মধ্যে দুর্নীতি রয়েছে। সেই কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এব্যাপারে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের তীব্র তোপের মুখে পড়তে হয় কেন্দ্রের মোদি সরকারকে।