Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাঁচিতে প্রয়াত জেলবন্দি মাওবাদী নেতা কিষানদা

প্রয়াত দেশের অন্যতম নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী) দলের পুলিটব্যুরোর শীর্ষনেতা প্রশান্ত বোস ওরফে ‘কিষানদা’। শুক্রবার সকালে রাঁচির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

রাঁচিতে প্রয়াত জেলবন্দি মাওবাদী নেতা কিষানদা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রয়াত দেশের অন্যতম নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী) দলের পুলিটব্যুরোর শীর্ষনেতা প্রশান্ত বোস ওরফে ‘কিষানদা’। শুক্রবার সকালে রাঁচির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। দেশ ‘মাওবাদী মুক্ত’ ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই দুনিয়া ছেড়ে চলে গেলেন যাদবপুরের ভূমিপুত্র জেলবন্দি এই প্রবীণ মাওবাদী নেতা। সাতের দশকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হওয়ার পর মাওবাদী সংগঠন এমসিসিতে হাতেখড়ি হয় প্রশান্ত বোসের।

Advertisement

২০২১ সালের ১২ নভেম্বর ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলাতে এক টোল প্লাজা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সস্ত্রীক এই অশীতিপর নেতাকে। তাঁর মাথার দাম ছিল কোটি টাকা। মাওবাদী দলের এক সূত্রের কথায়,‘কিডনির চিকিৎসার জন্য স্ত্রী শীলা মারান্ডির সঙ্গে পুরুলিয়া হয়ে কলকাতা আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই গোপন খবর গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছে যাওয়ায় তিনি ধরা পড়ে যান। কীভাবে এই গোপন খবর গোয়েন্দাদের কাছে পৌঁছল তা নিয়ে দলের অন্দরে এরাজ্যে সংগঠনের দায়িত্বে থাকা এক নেতার ভূমিকা সন্দেহের চোখে দেখা হয়।’ 
দেহরক্ষী সহ গ্রেপ্তারের সময় এই শীর্ষ মাওবাদী নেতার গাড়ি থেকে নগদ টাকা, মোবাইল, পেন ড্রাইভ, দুটি ডেটা কার্ড উদ্ধার করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। এই পেন ড্রাইভ,  ডেটা কার্ড থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন তথ্যকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযানে বড়সড় সাফল্য পায় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
২০০৪ সালে এমসিসি, জনযুদ্ধ গোষ্ঠী বা (পি ডাবলু জি) মিলিত হয়ে সিপিআই (মাওবাদী) দল গঠনে যে ক’জন নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বিজয়গড়ের বাসিন্দা প্রশান্ত বোস ওরফে বা কিষানদা।  দলের সংগঠন এবং রণকৌশল রচনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নেতা গণপতির পাশাপাশি এই বঙ্গ সন্তানের ভূমিকাও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে,  পূর্ব ভারতে দলের শেষ কথা বলতেন কিষানদাই।   এক সূত্র জানাচ্ছে, বিজয়গড়ে এই মাওবাদী নেতার দাদা এখনও বেঁচে। তাঁর এক ভাগ্নে কর্মসূত্রে রাঁচিতেই থাকেন। কলকাতার মানবাধিকার কর্মীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যে যোগ দিতে রাঁচি যেতে পারেন।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ