Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফলতার প্রাক্তন বিডিওর সঙ্গে জাহাঙ্গিরের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, শোরগোল, তদন্ত শুরু করল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন

ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বকসির সঙ্গে তৃণমূল নেতা তথা এলাকার ত্রাস জাহাঙ্গির খানের যোগসাজস ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠল।

ফলতার প্রাক্তন বিডিওর সঙ্গে জাহাঙ্গিরের  আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, শোরগোল, তদন্ত শুরু করল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বকসির সঙ্গে তৃণমূল নেতা তথা এলাকার ত্রাস জাহাঙ্গির খানের যোগসাজস ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠল। সরকারি অর্থ তছরুপ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয়, মিড ডে মিল, স্কুল ইউনিফর্মের টাকা তছরুপ, জমি কেলেঙ্কারি, হিসাব বহির্ভূত টাকা ঘুরপথে সিনেমা শিল্পে বিনিয়োগ, এসআইআর পর্বে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়া ইত্যাদি অভিযোগকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে ফলতায়।   

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই কলঙ্কিত বিডিওর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন। তার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, প্রশাসনে থেকে কেউ দুর্নীতি করলে তাঁদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ামাত্র দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ওই বিডিওর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। 
প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্বে ফলতার বিডিও শানু বকসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আসে নির্বাচন কমিশনের কাছে। ওই অভিযোগে বলা হয়, ফলতার ২৮২টি বুথের বিএলওকে তিনি মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্থানীয় বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, আমাদের কাছে সব তথ্যপ্রমাণ আছে। তাঁর দাবি, ফলতার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গির খানই এই নির্দেশ দিয়েছিলেন বিডিওকে। কমিশন বিষয়টি জানার পরেই বিডিওকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়। তাই ভোটের কয়েকদিন আগেই তাঁকে সরিয়ে দেয় কমিশন। জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গির ও বিডিওর চোখ রাঙানিতে ভয় পেয়েই বিএলওরা মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাতিল করেননি। এ নিয়েও তদন্তে করতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। দেবাংশু পান্ডা বলেন, জাহাঙ্গিরের কথায় বিডিও চলতেন। আমরা জানতে পেরেছি, ফলতায় প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলে ইউনিফর্ম কেনার টাকা, মিড ডে মিলের টাকা, চাল নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার মাসে একবার বিশেষ দিনে বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য কয়েক লক্ষ টাকা দিয়ে থাকে। সেই টাকাও বিডিওর সঙ্গে যোগসাজসে ভাগ-বাটোয়ারা করেছে জাহাঙ্গির। এছাড়াও সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় হয়েছে। বহু কাজ হয়েছে টেন্ডার ছাড়া।
তাঁর দাবি, বিডিওকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। আমরা কড়া শাস্তি চাই। একই সুর বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমা ঘোষ এবং স্থানীয় নেতা বিধান পাড়ুইয়ের। শানু বকসি এখন মালদহের হরিশচন্দ্রপুর ১-এর বিডিও। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে সংবাদমাধ্যম তাঁকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি উত্তর দেননি।

সম্পর্কিত সংবাদ