Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রী সহ তিন মন্ত্রী ও পুলিশি বহরের সামনে ‘লুট’ হয়ে গেল জগন্নাথের ভোজ

গুপ্তিপাড়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামনে জগন্নাথের ভোগ লুট হয়। ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে ভক্তদের মধ্যে হইচই। বিস্তারিত পড়ুন।

মুখ্যমন্ত্রী সহ তিন মন্ত্রী ও পুলিশি বহরের  সামনে ‘লুট’ হয়ে গেল জগন্নাথের ভোজ
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে একাধিক মন্ত্রী, বিরাট পুলিশ বাহিনীর সামনেই ‘লুট’ হল। মুগ্ধ চোখে, নির্বাক, নিঃস্পন্দ হয়ে দেখলেন সকলে! পুলিশের কর্তা থেকে কর্মীদের কেউ কেউ ‘লুট’-এর ভাগও নিলেন। হ্যাঁ, প্রকাশ্যেই। আসলে লুট হয়ে গেল হুগলির গুপ্তিপাড়ায় জগৎপতি জগন্নাথের সাধের ভোজ। দেবী লক্ষ্মীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার আঁধার নামতেই একদল লুটেরা হামলা চালিয়েছিলেন জগন্নাথের মাসির বাড়িতে। ৬৫ পদে সাজানো হাজার হাজার ভোগপাত্রের সবগুলিই লুট করে নিয়ে যান তাঁরা। আর এসব যখন ঘটছে, তখন ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। আর লুটের পর ভক্তদের মধ্যে মহার্ঘ্য প্রসাদ পেতে কাড়াকাড়ির সময় গুপ্তিপাড়া মুখরিত হয়েছিল জগৎপতির নামধ্বনিতে। দু’শো বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ঐতিহ্যবাহী ‘ভাণ্ডার লুট’ অনুষ্ঠানে এভাবেই মাতোয়ারা হয়েছিল গোটা গুপ্তিপাড়া।

Advertisement

গুপ্তিপাড়ার রথকে কেন্দ্র করে দেবতার নরলীলার এহেন বেনজির অনুষ্ঠান অবশ্য বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে। এই প্রথম রাজ্যের কোনো মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভাণ্ডার লুটের মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। এদিন সন্ধ্যার মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাজির হয়েছিলেন গুপ্তিপাড়ায় জগন্নাথদেবের মাসির বাড়িতে। তার আগে থেকেই বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত ও স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক সুমনা সরকার। ছিলেন বৃন্দাবনচন্দ্র জিউ মন্দিরের সাধুসন্ত থেকে অগণিত পুণ্যার্থী।
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করেছিল গুপ্তিপাড়ায় জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি তথা গুণ্ডিচা বাড়ির সামনে। মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের কারণে নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল, ছিল প্রবল বর্ষণ। কিন্তু কোনো কিছুই ভক্তদের উৎসাহে বাঁধ দিতে পারেনি। শতাব্দী প্রাচীন এক উৎসবকে ঘিরে হুগলি তো বটেই, ভিন জেলা থেকেও কাতারে কাতারে ভক্ত এসেছিলেন। জগন্নাথদেবের ভোগের পাত্র থেকে ভোগগ্রহণের সুযোগ নিতে আবালবৃদ্ধবণিতা ভেঙে পড়েছিলেন গুণ্ডিচা বাড়ির চাতালে। বিকালের পর থেকে ভিড় আরও জমাট বাঁধে। ততক্ষণে লুটেরারাও হাজির হয়ে গিয়েছে। দেবীর নির্দেশের অপেক্ষায় তাঁরা। আর অন্যদিকে ভোগের ভাগ পেতে উৎসুক পুণ্যার্থীদের ভিড়। সব মিলিয়ে জমজমাট আবহ। সন্ধ্যা নামতেই লুটেরারা মাসির বাড়ির পাকঘরের দরজা ‘ভেঙে’ ঢুকে পড়েন। পরবর্তী দশ মিনিটে কেবল লুটতরাজ, আর লুটের ভোগের বিলিবণ্টন। যে দৃশ্য দেখলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীরা।
কী ছিল ভোগে? উত্তর কী ছিল না! খিচুড়ি, পোলাও, পনির থেকে নানা ব্যঞ্জনের সমাহার। আর ছিল উপাদেয় মিষ্টির বাহারি আয়োজন। অতি অবশ্যই ছিল পায়েস। এদিকে, রাতে ভাণ্ডার লুট উৎসব মিটতেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে উলটো রথের। আজ, শুক্রবার মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা সহ হুগলিতে উলটো রথের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ সুস্বাদু খাবারের অভাবে বা লীলাসাঙ্গ সেরে শ্রীপাটে ফিরবেন জগৎপতি। তবে এত কাণ্ডের পরেও লক্ষ্মীদেবীর মান ভাঙাতে হবে তাঁকে। সেও এক ঐতিহ্যের উৎসব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ