Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জগন্নাথ ও রথ

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হবে হবে। বিরাট, নানা অলঙ্কারে সজ্জিত নন্দীঘোষ রথে বসে সারথি কৃষ্ণকে পার্থ বলে উঠলেন, ‘হে কেশব, কাদের মনে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগ্রহ ও দুঃসাহস উত্‌পন্ন হয়েছে তাদের একটু দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে!’ অর্জুন এই বাক্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীঘোষ রথকে দুই বিবাদমান পক্ষের মধ্যে এনে স্থাপন করলেন।

জগন্নাথ ও রথ
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরু হবে হবে। বিরাট, নানা অলঙ্কারে সজ্জিত নন্দীঘোষ রথে বসে সারথি কৃষ্ণকে পার্থ বলে উঠলেন, ‘হে কেশব, কাদের মনে আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আগ্রহ ও দুঃসাহস উত্‌পন্ন হয়েছে তাদের একটু দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে!’ অর্জুন এই বাক্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে কৃষ্ণ নন্দীঘোষ রথকে দুই বিবাদমান পক্ষের মধ্যে এনে স্থাপন করলেন। অর্জুন দেখলেন চারদিকে আত্মীয় পরিজন! কাকে বধ করবেন তিনি? জয়লাভ করতে পারবেন তো? ভয়ে তাঁর মুখ শুকিয়ে গেল, হাত থেকে প্রিয় গাণ্ডীব খসে পড়ল! তিনি ঘর্মাক্ত কলেবরে সেই রথের উপরই বসে পড়ে অর্জুন বললেন, ‘কৃষ্ণ সেই রক্তমাখা সিংহাসন আমার চাই না! আমি যুদ্ধ করতে অপারগ!’ কেশব বুঝলেন অর্জুন বিষাদগ্রস্ত হয়েছেন। সেই নন্দীঘোষ রথের উপরই তিনি অর্জুনকে উজ্জীবিত করতে শুরু করলেন। বিষাদগ্রস্ত অর্জুন কৃষ্ণের বিশ্বরূপ দর্শন করে আবার গাণ্ডীব ধরলেন। কৃষ্ণ তাঁর পাঞ্চজন্য শঙ্খে দিলেন ফুৎকার। শুরু হল কুরুক্ষেত্রের ধর্মযুদ্ধ। নন্দীঘোষ রথের উপর ভগবান মুখ নিঃসৃত যে গান গীত হয়েছিল তাই  ‘শ্রীমদ্ভাগবত গীতা’ নামে পরিচত হল। রথ এখানে যেন দেহের প্রতীক, যে রথের মধ্যেই মানবের বিষাদগ্রস্ত হওয়া, আবার যে রথের মধ্যে আত্মজাগানিয়া গান শুনে পুনরায় জেগে ওঠা ও বিজয়ী হওয়া। এই বিষাদ আর বিজয়ের রথ হল এক গুরুত্বপূর্ণ অস্তিত্ব। রথের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে আছে স্বয়ং দ্বারকাধীশ শ্রীকৃষ্ণ, কিন্তু তা জগন্নাথ রূপে। আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, শ্রীকৃষ্ণ ঠুঁটো জগন্নাথ হলেন কী করে? এর নেপথ্য কাহিনি পুরাণ ও লোককথার মাধ্যমে প্রচলিত আছে। দ্বাপরযুগের শেষ লগ্ন সমাগত। কৃষ্ণ সামান্য এক ব্যাধের তিরে আহত হয়েছেন। তাঁর জীবনের আশা নেই শুনে হস্তিনাপুর থেকে পঞ্চপাণ্ডবের মধ্যে যুধিষ্ঠির ও অর্জুন দ্বারকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু কৃষ্ণের জীবন রক্ষা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হল না। আচার অনুসারে অন্যান্য যদুবংশীয়দের সঙ্গে কৃষ্ণের দাহকার্যের আয়োজন করা হল। সেই ভাগবতী পবিত্র তনুতে অগ্নিসংযোগ করা হল বটে কিন্তু সেই অগ্নি কিছুতেই কৃষ্ণের হৃদয়কে দগ্ধ করতে পারল না। নাভির অংশ আর হৃদয় তেমনভাবেই স্পন্দিত হতে লাগল! সকলে অবাক! এ কী হচ্ছে? দাহ কেন সম্পন্ন করা যাচ্ছে না? কোনও কি ত্রুটি হল? এইসব চিন্তায় যখন পার্থের মন মেঘাচ্ছন্ন তখন আকাশ থেকে দৈববাণী হল— ‘কৃষ্ণদেহতে অগ্নিসংযোগ করা একেবারেই উচিত হয়নি। যেটুকু দগ্ধ হল না, তা কোনও দিনও দগ্ধ হবে না। সেইটুকুকে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দাও!’ শোকাচ্ছন্ন মনে কৃষ্ণপ্রিয় অর্জুন সেই নাভি ও হৃদয়কে সমুদ্রের জলে ভাসিয়ে দিলেন। তারপর তাঁরা ফিরে এলেন হস্তিনাপুর আর সেই পবিত্র জীবন্ত বস্তু ভাসতে ভাসতে ওড়িশার নীলাম্বু সাগর জলের তীরে উপস্থিত হল। এই সময় তাঁর রূপের বর্ণনায় নীল রঙের ছড়াছড়ি! দেবতার অগ্নি সমর্পিত জীবন্ত দেহাংশের রং নীল! যেন উজ্জ্বল নীলকান্ত মণি! তাই তাঁর নাম নীলমাধব! এই নীলমাধব রূপে বহুদিন এক শবরের পুজো গ্রহণ করলেন। কিন্তু রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন তাঁর সাধনলব্ধ অনুভূতিতে জানতে পেরেছেন, ভগবান তাঁর রাজ্যেরই কোথাও বিরাজ করছেন। কিন্তু কোথায় করছেন তার খোঁজ কারও জানা নেই। নানাদিকে ব্রাহ্মণদের পাঠালেন রাজা। তখন ব্রাহ্মণেরা রাজাদের চর রূপেও কাজ করতেন। তাঁদেরই একজন খোঁজ এনে দিলেন। তারপরের কাহিনি অনেকেরই জানা। রাজা সেই নীলমাধবের জন্য বিগ্রহ তৈরি করতে শুরু করলেন স্বপ্নাদেশ পেয়ে। স্বয়ং বিশ্বকর্মা এলেন ছদ্মবেশে। তিনি রাজাকে বললেন, বিগ্রহ তৈরি করতে হবে বন্ধ ঘরের মধ্যে। বিগ্রহ গঠনের সময় কোনও মতেই তাঁকে ডাকা যাবে না। বন্ধ ঘরের দরজা খোলাও নিষেধ। রাজা সম্মত হলেন বটে কিন্তু বিশ্বকর্মা কাজ শুরু করলে তিনিও অধৈর্য হয়ে উঠলেন। কবে শেষ হবে? কবে তিনি আরাধ্য দেবতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবেন? উতলা হলেও ধৈর্য হারালেন না তিনি। কিন্তু রানি একসময় অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়লেন। মূর্তি ঠিকমতো হচ্ছে তো? তাঁর প্ররোচনায় রাজা নিষেধ সত্ত্বেও খুলে ফেললেন দরজার শিকল। কোথায় কে? সম্মুখে হস্তপদ বিহীন বিরাট তিন মূর্তি! মূর্তি অসম্পূর্ণ রেখে কারিগর কি উধাও হল? কিন্তু চলে যাবে কোন পথ দিয়ে রাজা তো দুয়ারে প্রহরী রেখেছেন। তাকে অমান্য করে কিছুতেই কারও পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। বিভ্রান্ত রাজাকে অবাক করে দিয়ে আকাশবাণী হল, মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন, স্বয়ং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা আমার মূর্তি তৈরি করছিলেন। তোমার কৌতূহলে তা অসম্পূর্ণ হয়ে রইল। তুমি এখন এই মূর্তিই প্রতিষ্ঠা কর। রাজা মনের দুঃখে সেই জগন্নাথ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করলেন। তার ভিতরে স্থাপন করলেন কৃষ্ণের জীবন্ত হৃদয়কে, উজ্জ্বল নীলমণি সদৃশ সেই বিগ্রহ তখনও প্রাণের স্পন্দনে ধুকপুক করছে। হৃদয়ের এই ছন্দ নিক্ষেপ থেমে যাবে না কোনওদিন।  চিরকালের জন্য তিনি স্পন্দিত হবেন ভক্তের সঙ্গে লীলাবিলাসের জন্য। মূর্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিরাট মন্দিরও স্থাপন করলেন রাজা। যার আকৃতি অনেকটাই রথের মতো। বিষাদগ্রস্ত মানবমন এই মন্দির চত্বরে প্রবেশ করলেই বিজয়ের অধিকারী হয়। বিশ্বরূপ দর্শনের অধিকার লাভ করে জ্ঞানী হয়ে ওঠে। সেই রথসদৃশ মন্দিরের মধ্যে শ্রীমন্দির। তার মধ্যে লক্ষশালগ্রাম শিলায় গঠিত রত্নবেদীতে প্রভু জগন্নাথ সমাসীন। তাঁর সঙ্গে দাদা বলারাম, বোন সুভদ্রা আর একটি লাঠির আকৃতিতে বিরাজিত সুদর্শন চক্র।

Advertisement

জগন্নাথ মন্দিরে অধিষ্ঠিত আছেন কিন্তু তিনি অস্পৃশ্য, নিচু জাতি, বিজাতীয় সম্প্রদায়ের কাছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেউ তাঁকে মন্দিরে প্রবেশ করে দেখতে বা স্পর্শ করতে পারে না। তাই রানি গুণ্ডিচা দেবী রাজা ইন্দ্রজিৎকে আবেদন করলেন। কয়েকটি দিনের জন্য জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে সকলের জন্য বাইরে পরিক্রমা করানো হোক। তিনি বাইরে এলে সকলে তাঁকে আলিঙ্গন করতে পারবে। দর্শনও করতে পারবে। গুণ্ডিচা দেবীর ইচ্ছাকে সার্থক করার জন্য জগন্নাথদেব স্নানযাত্রার দিন স্নান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর জ্বর এসেছে এমন ধারণায় তাঁকে পাঁচন খাওয়ানো হয়। জলের সঙ্গে ধুয়ে যাওয়া অঙ্গরাগও নতুন করে সম্পূর্ণ করা হয়। সেই নতুন সজ্জায় সজ্জিত হয়ে জগন্নাথ রথে চড়ে চলেন মাসির বাড়ি, গুণ্ডিচা বাড়িতে। সেখানে তিনি, দাদা বলরাম, বোন সুভদ্রা ও অস্ত্র সুদর্শন ন’দিন বাস করেন, ভালো-মন্দ খাওয়া দাওয়া হয়। যাওয়ার সময় প্রতিদিন ভালো পরিচ্ছদের জন্য বাক্সভর্তি বেশ দেওয়া হয়। সেই বেশভূষার মধ্যে যদি কিছু অপছন্দের থাকে তবে নাকি জগন্নাথদেব রথেই উঠতে চান না। পাণ্ডারা এটা বুঝতে পেরে বেশভূষা, অলঙ্কার পরিবর্তন করেন। সঙ্গে থাকে দামি সুগন্ধীও। বলরাম খুব রাগী, তাই তাঁর সম্মুখে নানা খেলা দেখানো হয়। দেবতার তুষ্টির জন্য মন্দিরে দেবদাসীদের বিখ্যাত ওড়িশি নৃত্যে মন মজাতে চেষ্টা করা হয় সেই চিকন কালার। তবু কি দুষ্টুমি থামে! কিছুতেই রথে উঠবেন না! পাণ্ডারা লাঠি দেখাতে থাকেন। এর অর্থ, আমরা তো তোমার শ্রীঅঙ্গে আঘাত করতে পারব না। তাই বৃন্দাবনে মা যশোদা তোমায় কীভাবে লাঠি দিয়ে প্রহার করতেন সেটাই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। জগন্নাথের রথে আরোহন নিয়ে চলে এসব নানা কিছু। মণ্ডপের অমন রোগা লম্বা জগন্নাথ রথের দিন কাপড়ের পট্টিতে আবৃত হয়ে এমন মোটা হন কী করে সেটাই ভাববার বিষয়। এমন স্থূল যে অতগুলি স্থূলকায় পাণ্ডারা টেনে তুলতে অক্ষম হন। নানা অছিলায় তিনি বিলম্ব করেন। অনেককাল আগে এখন যে বড় রাজপথ দিয়ে পুরীতে রথ গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে রওনা হয় সেই পথটি ছিল বহমান নদী। তাই মন্দির থেকে বেরিয়ে একদিন নদীর এই পাড়ে অপেক্ষা করতেন জগন্নাথ। পরের দিন মাসির বাড়ি যাওয়া। সে এক দীর্ঘ পরিক্রমা। 
গুণ্ডিচা বাড়ি থেকে ন’দিন পর আবার ফিরে আসেন মন্দিরে। কিন্তু মাসির বাড়িতে যাওয়ার সময় জগন্নাথ তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীকে নিয়ে যান না। পরিবর্তে ভগিনীকে নিয়ে যান। সেই কারণে লক্ষ্মী কুপিত থাকেন। এই ন’দিনের মধ্যে তিনি একবার লুকিয়ে তিন জনকে গুণ্ডিচা বাড়িতে গিয়ে দেখে আসেন। তাতে তাঁর ক্রোধ আরও বৃদ্ধি পায়। তিনি ন’দিন পর মন্দিরের সম্মুখে আগত জগন্নাথকে শ্রীমন্দিরে ঢুকতে দেন না। মন্দিরের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকেন। সেখানেই তাঁর স্বর্ণবেশ হয়। তারপর লক্ষ্মীর মানভঞ্জন করে রসগোল্লা খাইয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন জগন্নাথদেব। রথের সামগ্রিক অনুষ্ঠান এতটাই বড়। লোকায়ত ধারণা যে, রথের রশিতে টান দিলে, বা তা স্পর্শ করলে পুণ্যলাভ হয়। তাই মানুষ এই রথের রশিতে টান দেওয়ার ইচ্ছায় সমবেত হয়। রথযাত্রা হল এমন এক উত্সব যা অনুষ্ঠিত হয় আষাঢ় মাসে। এই উত্সবকে যাত্রা বলা হচ্ছে। বিষ্ণুকে নিয়ে যে সমস্ত অনুষ্ঠান যেমন— স্নানযাত্রা, দোলযাত্রা, ঝুলনযাত্রা, রথযাত্রা— এই সব তিথির শেষে যাত্রা শব্দটির ব্যবহার করা হচ্ছে কেন? পণ্ডিতদের মতে, এই যাত্রা কেবল বিষ্ণুর নয়, এ হল সূর্যের গতিপথের এক একটি পর্যায়। সূর্যের এক একটি চলনকে যাত্রা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।  
লোকায়ত ধারণায় কিন্তু জগন্নাথের এই ঠুঁটো রূপটি গঠনের পৃথক কাহিনি আছে। একবার দ্বারকার রাজপুরীতে মাতা দৈবকী কৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলা শুনতে আগ্রহী হন। সেই লীলাকথা দ্বারকায় কৃষ্ণ সম্মুখে কখনওই উচ্চারিত হতো না। কারণ বৃন্দাবনলীলার স্মরণ হলে তিনি বিহ্বল হন। তাই অক্রুর সব দুয়ার বন্ধ করে বৃন্দাবন লীলার কথা মাতা দেবকীকে বর্ণনা করতে থাকেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই কৃষ্ণ, বলরাম আর সুভদ্রা সেখানে উপস্থিত হন। দরজার ফাঁক দিয়ে বৃন্দাবন লীলার কথা তাঁদের কানে প্রবেশ করে। সেই অসামান্য লীলা স্মরণে আসতেই তিন জন গলে হস্তপদ হীন এক বিচিত্র আকার ধারণ করেন। সেই আকারেই নীলাচলে জগন্নাথ পূজিত ও আরাধিত। 
ঋক বেদের মধ্যেও রথের উল্লেখ পাওয়া যায়। এখানেই কাঠের তৈরি রথের কথা বলা হয়েছে। হিন্দুশাস্ত্রে রথকে বারংবার রূপক রূপে ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা কঠ উপনিষদে প্রথম রথের উল্লেখ স্পষ্টভাবে দেখছি। মৃত্যুর দেবতা যম, নচিকেতাকে আত্মা, মন, বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে বোঝাচ্ছেন রথের মাধ্যমে। তিনি বলছেন, ‘আত্মানং রথিনং বিদ্ধি শরীরং রথমেব তু, বুদ্ধিং তু সারথিং বিদ্ধি মনঃ প্রগ্রহমেব চ। ইন্দ্রিয়াণি হয়ানাহুর্বিষয়াংস্তেষু গোচরান্। আত্মেন্দ্রিয়মনোযুক্তং ভোক্তেত্যাহুর্মনীষিণঃ।।’ 
এই মন্ত্রের অর্থ হল ‘আত্মা হলেন রথী, শরীর হল রথ, বুদ্ধি সারথি মনকে লাগাম মনে করতে হবে। হে জ্ঞানীগণ, চক্ষু ইত্যাদি ইন্দ্রিয়গুলিকে অশ্ব এবং ইন্দ্রিয়ভোগ্য বিষয়গুলিকে অশ্বদের চলার পথ মনে করবে। যাঁরা জ্ঞানী তাঁরা শরীর, ইন্দ্রিয় ও মনের সঙ্গে সংযুক্ত আত্মাকেই সমস্ত কিছুর ভোগকর্তা বলে জেনে থাকেন।
কোনও কোনও পণ্ডিতদের মতে, রথ ছিল প্রধানত বৌদ্ধদের উত্সব। রাঢ় অঞ্চলে এই উত্‌সবের আধিক্য সেখানে বৌদ্ধধর্মের অবস্থিতির কথা প্রমাণ করায়। বিশেষত ধর্মঠাকুর। আমরা আর রথ নিয়ে তত্ত্বকথায় প্রবেশ করি না। রথ আমাদের কাছে মেলা নিয়ে আনন্দ উত্‌সব। তার উত্পত্তি যে ভাবেই হোক না কেন রথের দড়ি স্পর্শ করে জগন্নাথের জয়ধ্বনিতে মনকে তৃপ্ত করেই আমরা তুষ্ট হই।
গ্রাফিক্স : সুব্রত মাজী, চন্দন পাল
সহযোগিতায়: বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, উজ্জ্বল দাস

সম্পর্কিত সংবাদ