


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহর ও শহরতলি জুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে জগদ্ধাত্রীর আরাধনা। মণ্ডপ, আলো, প্রতিমাতেও রয়েছে নানা চমক। সর্বজনীন পুজোর পাশাপাশি মঠ‑মন্দির, আশ্রমেও হচ্ছে এই মাতৃপুজো। সব মিলিয়ে জগদ্ধাত্রী পুজোয় শহরজুড়ে সাজ সাজ রব।
কলকাতার আজাদগড় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির এটি ১৮ তম বর্ষ। এখানে সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী– তিনদিন ধরেই চলে মায়ের আরাধনা। পুজো কমিটির তরফে গৌর সাহা জানান, আমাদের ১৪ ফুটের মাতৃপ্রতিমা ডাকের সাজের। প্রতিমাশিল্পী রঞ্জিত বিশ্বাস। প্রতিমার সাজসজ্জায় রয়েছেন শুভজিৎ গিরি। রুবি গোলপার্ক সভ্যবৃন্দের পুজো এবার পা দিল ২৬ বছরে। ডাকের সাজের দৃষ্টিনন্দন প্রতিমার উচ্চতা এখানেও ১৪ ফুট। মণ্ডপ রীতিমতো চোখ ধাঁধানো।
দক্ষিণ কলকাতার জোকার ডিটিসি সার্দান হাইটস আবাসনের জগদ্ধাত্রী পুজোয় তুলে ধরা হয়েছে এক টুকরো চন্দননগর। পুজোর মূল ভাবনা ‘সনাতন সংস্কৃতি’। পুজো কমিটির সভাপতি পুলককুমার মুখোপাধ্যায় জানান, আবাসনের সমস্ত বাসিন্দাকে একত্রিত করে এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, চন্দননগরের ঐতিহ্যকে আবাসনের বাসিন্দাদের সামনে তুলে ধরা। মণ্ডপ, আলো ও শিল্পে হুবহু চন্দননগরের ছবি তুলে ধরা হয়েছে।
মদনমোহনতলা স্ট্রিটে উত্তর কলকাতার হেরিটেজের উদ্যোগে জগদ্ধাত্রী পুজো এবার পা দিল ১২ তম বর্ষে। পুজো কমিটির তরফে মিহির সাহা ও দীপক সাউ জানান, আমাদের প্রতিমা ছ’ ফুটের। প্রতিমা শিল্পী বিমল পাল। এখানে নবমীর দিনই তিনপর্বের পুজো হয়। বাগবাজার সর্বজনীন জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির এটা ৫৮ তম বর্ষ। আলো, প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা চোখ টানে। শ্যাম স্কোয়ারের পুজো এবার পড়ল ৫০ তম বর্ষে। মণ্ডপ ও প্রতিমা দেখতে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে ভিড় জমান। পুজো উপলক্ষে বসেছে মেলা।
উত্তর শহরতলির দেবীবরণ কমিটির পুজো এবার দশম বর্ষে পড়ল। এখানকার প্রতিমা সাবেকি। কমিটির তরফে তারা ভট্টাচার্য জানান, নবমীর রাতে এলাকার মানুষের মধ্যে ভোগ বিতরণ করা হয়। আড়ম্বর নয়, পুজোয় আমাদের মূলধন ভাব ও নিষ্ঠা। ওঙ্কারনাথদেব প্রতিষ্ঠিত ডানলপ মহামিলন মঠেও প্রতি বছরের মতো এবারও জগদ্ধাত্রী পুজো হচ্ছে। বরানগর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ আশ্রমেও (কাচের মন্দির) হচ্ছে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা। আশ্রম সভাপতি স্বামী সত্যপ্রকাশানন্দ জানান, আশ্রম প্রতিষ্ঠাতা স্বামী সত্যানন্দদেব মা ত্রিনয়নীকেই (মা কালী) জগদ্ধাত্রীরূপে পুজো করতেন। সেই রীতি মেনেই এই আশ্রমে আজও অনুষ্ঠিত হয় জগদ্ধাত্রী পুজো। হয় বিশেষ হোম। ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় নানা পদ। দেওয়া হয় মিষ্টি ও ফল। সন্ধ্যায় হয় মায়ের বিশেষ আরতি।