


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তিনবছর বাদে যোগ দিয়ে ছাত্রভোট এবং নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হলেন রাজ্যপাল তথা আচার্য সি ভি আনন্দ বোস। বুধবার ৬৮তম বার্ষিক সমাবর্তন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজ্যপাল ঢোকার পর থেকেই ছাত্রভোট, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে বন্ধ অনুমোদন চালু প্রভৃতি দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে এসএফআই। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহমত হয়ে দ্রুত ছাত্রভোটের পক্ষে সওয়াল করেছেন রাজ্যপাল। এজন্য সরকার এবং কর্তৃপক্ষকেও উদ্যোগী হতে বলেন। এই ইস্যুতে ছাত্রদের কাছ থেকে স্মারকলিপি নিয়েছেন তিনি। রাজ্যপাল এও বলেন, ‘রাজভবন এখন আর লোকভবন নেই। সেখানেও ছাত্ররা সবসময় স্বাগত।’
একইসঙ্গে উঠে আসে নিরাপত্তার বিষয়টিও। র্যাগিংয়ে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনার পর এক ছাত্রীরও জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা। এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এরাজ্যের সমস্যা হল দুর্নীতি ও হিংসা। এমনকি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও তার বাইরে নয়। আমি ইসরোকে অনুরোধ করেছিলাম ড্রোন উড়িয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকা লোকজনের উপরে নজরদারির জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন কেউ যেন এখানে থেকে ঝামেলা পাকাতে না-পারে। প্রসঙ্গত, কলকাতা পুলিশের তরফে এই ক্যাম্পাসে একটি আউটপোস্টের সুপারিশ করা হয়েছিল। তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তাতে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘এই ব্যাপারে সরকারই ব্যবস্থা নেবে।’
এখনও বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ ফাঁকা। এই ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য, বেশকিছু উপাচার্য পদপ্রার্থীকে আমার যোগ্য মনে হয়নি। তাই সেগুলিতে ছাড়পত্র দিইনি। এই ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ২০২২ সালের পরে এই প্রথম সমাবর্তনে কেন? সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটিই প্রথম বৈধ সমাবর্তন, তাই এসেছি। প্রসঙ্গত, এর আগের সমাবর্তনে তিনি অনুমতি দেননি। এমনকি, ২০২৩ সালের সমাবর্তনে তিনি এসেও ফিরে যান।
তিনি থাকাকালীন একাধিকবার জাতীয় সংগীত এবং বন্দে মাতরম্ গাওয়া হলেও রাজ্য সংগীত গাওয়া হয়নি। তা নিয়ে বিতর্ক হয়। এই প্রসঙ্গে উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজ্যপাল থাকাকালীন কিছু প্রোটোকল থাকে। পরে তা বাজানো হবে।’ এতে অনেকে প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের সামনে কেন রাজ্য সংগীত গাওয়া যাবে না? যদিও, পরবর্তীতে তা গাওয়া হয়েছে। এদিকে, ছাত্রভোট প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, আমরাও ছাত্রভোটের পক্ষে। সরকারের নির্দেশ পেলেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে আইসিসিতে গবেষক প্রতিনিধি বাছাইয়ে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে ছাত্র প্রতিনিধিদের আনতেও নির্বাচন হবে দ্রুত।’
এদিনের সমাবর্তনে ২,১১২ জন পড়ুয়াকে স্নাতক ডিগ্রি, ২০০৪ জন পড়ুয়াকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ৩৭০ জন গবেষককে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল সাতটি গভর্নর্স এক্সেলেন্স অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করেন। স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ছাত্রছাত্রী মিলিয়ে চারজন, একজন শিক্ষক, একজন আধিকারিক এবং একজন শিক্ষাকর্মী এই পুরস্কার পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয় পরে এঁদের নাম বাছাই করে রাজ্যপালের কাছে পাঠাবে।