Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অধ্যাপকের নিরাপত্তায় প্রথা ভেঙে ক্যাম্পাসে সাদা পোশাকের পুলিস

সাদা পোশাকের পুলিসের উপস্থিতিতে সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে নিজের দপ্তরে ঢুকলেন অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র

অধ্যাপকের নিরাপত্তায় প্রথা ভেঙে ক্যাম্পাসে সাদা পোশাকের পুলিস
  • ১১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাদা পোশাকের পুলিসের উপস্থিতিতে সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে নিজের দপ্তরে ঢুকলেন অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও তিনি নিজে ক্যাম্পাসে পুলিস ডাকেননি বলেই দাবি এই অধ্যাপকের। যদিও পড়ুয়াদের বিক্ষোভের মধ্যে দিয়ে তিনি যেভাবে কর্মক্ষেত্রে ফিরেছেন, তা প্রশংসিতও হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ছাত্রছাত্রীরা অবশ্য ক্যাম্পাসে পুলিস ঢোকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আরও তীব্র করেন। সম্প্রতি একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ করলে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না। তারপরেই ক্যাম্পাসে পুলিস ঢোকার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এদিন আরও একটি গুরুতর বিতর্কেও জড়িয়েছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের নাম। টেকিপ বিল্ডিংয়ের গায়ে আঁকা ছবি এবং তাতে ‘আজাদ কাশ্মীর’-এর দাবিতে লেখা স্লোগান এদিন সামনে এসেছে। এর জেরে পিডিএসএফ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে যাদবপুর থানার পুলিস। এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, টিএমসিপি এবং এবিভিপির সদস্যরা তাদের কালিমালিপ্ত করতে এই কাজ করে থাকতে পারেন। যদিও, যাদবপুরের টিএমসিপি এই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা দাবি করেছে, এটা বাম-অতিবামদের কাজ। তাদের বক্তব্য, ক্যাম্পাসে কারা বেশি শক্তিশালী, সেটা সবাই জানে। তাদের সংগঠনের কেউ এই ছবি আঁকলে অনেক আগেই বাম-অতিবামদের চোখে পড়ে যেত। তার অবস্থা শোচনীয় হতো। ছবি আঁকা তো আর পোস্টার সাঁটা নয়। এটা সময়সাপেক্ষ। লুকিয়েচুরিয়ে করে ফেলা সম্ভব নয়। হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় এসএফআইকে অবশ্য এ বিষয়ে ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছেন মন্ত্রীর গাড়িতে জখম আরএসএফ নেতা ইন্দ্রানুজ রায়। ক্যাম্পাসের অন্দরে খবর, এই কাজ অতিবামদেরই। কারণ, ‘আজাদ কাশ্মীর’-এর দাবি তাদের ঘোষিত নীতি। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে খোঁজখবর শুরু করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি (এনআইএ)। উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত এদিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনই ক্যাম্পাসে আসতে পারছেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ছাত্রদের সঙ্গে এদিন আলোচনায় বসেছিলেন সহ উপাচার্য অমিতাভ দত্ত, রেজিস্ট্রার কণিষ্ক সরকার, ডিন অব স্টুডেন্টস রজত রায় প্রমুখ। তার আগে ছাত্রদের দাবি মেনে পুলিসকে ক্যাম্পাস থেকে সরানো হয়। চার ঘণ্টা পর পুলিস বেরিয়ে গেলে আলোচনা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পুলিস ডাকেনি। এদিন তৃণমূলের অধ্যাপক নেতা মনোজিৎ মণ্ডলকে তাঁর অফিসঘরে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ চলে।  এদিকে, দ্রুত এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) বৈঠক ডাকার দাবিতে সহ-উপাচার্যকে ই-মেল করেছেন ইসি’র আচার্য মনোনীত সদস্য কাজি মাসুম আখতার। তাঁর বক্তব্য, ‘ইসি বৈঠক না ডেকে এ ধরনের আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। ছাত্রভোট নিয়ে সরকারের কাছে দরবার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত বৈঠকের মাধ্যমেই করতে হবে।’ জেরার নামে পুলিস হেনস্তা করছে, এই অভিযোগে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক এসএফআই সমর্থক ছাত্র।  বিক্ষোভের মাঝে ওমপ্রকাশ মিশ্র। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ