


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একেই বলে উলটপুরাণ! ক’দিন আগে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে তিনটি সম্প্রসারিত মেট্রো রুট। তারপর থেকে মারাত্মক ভিড় হচ্ছে মেট্রোয়। ভিড়ের চাপে নাজেহাল যাত্রীরা বলছেন, ‘মেট্রো তো নয়, যেন বনগাঁ লোকাল’! শুক্রবার সেই বনগাঁ লাইনে প্রথম ছুটল এসি লোকাল! কামরার মধ্যে ঘেমেনেয়ে একসা হওয়া নেই। দরজায় নেই বাদুড়ঝোলা ভিড়। নেই যাত্রীদের ঠেলাঠেলি, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। প্রথম এসি লোকালের যাত্রীরা বলছেন, ‘লোকাল তো নয়, যেন দ্রুতগতির মেট্রো’!
শুক্রবার সকালে ঘড়ির কাঁটা তখন ৭টা ছুঁইছুঁই। বনগাঁ স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে এসি লোকালের টিকিট কাটার জন্য লাইন পড়েছে। ততক্ষণে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসি লোকাল এসে দাঁড়িয়েছে স্টেশনে। টিকিট কেটেই অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন ট্রেনের সঙ্গে সেলফি তুলতে। ছবি তোলার হুড়োহুড়ি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হল আরপিএফ ও জিআরপিকে। রানাঘাট থেকে বনগাঁ হয়ে ট্রেনটি রওনা দেয় শিয়ালদহ। শুধু যাত্রীরা নয়, এসি ট্রেন দেখতে বনগাঁর পাশাপাশি এই শাখার অন্যান্য স্টেশনগুলিতে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর সাধারণ মানুষ। বহু নিত্যযাত্রী এদিন গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বেছে নেন স্বাচ্ছন্দ্যের ট্রেন-সফর। তবে, এসি ট্রেনের ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ চাপা থাকেনি। অনেকেই জানালেন, প্রথম দিন তাই এই ট্রেনে উঠেছেন। ভাড়া এত থাকলে নিয়মিত যাতায়াত মুশকিল।
ঠাকুরনগর স্টেশন থেকে এই ট্রেনে ওঠেন ইন্দ্রানী বাগচী। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রেনে চাপার অনুভূতি তো পুরোটাই মেট্রোর মতো। ৫০ সেকেন্ড অন্তর কামরায় ঘোষণা করে যাত্রীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসি লোকালকে এখন দ্রুতগামী মেট্রো বলাই যায়।’ এদিন হাবড়া থেকে ট্রেনে ওঠেন সুকুমার পণ্ডিত নামে শিয়ালদহের এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী। তাঁর দাবি, ‘অনেক আরামে আসা গেল প্রথম দিন। আসলে এদিন ছুটি ছিল অনেক সরকারি-বেসরকারি অফিসে। তবুও তো ভালোই ভিড় হয়েছে। তবে, আসল পরীক্ষা হবে সোমবার।’ তাঁর দাবি, ভাড়া কিছুটা কমানো দরকার। দত্তপুকুরের গৌতম ঘোষ মধ্যমগ্রাম এসেছিলেন ট্রেন দেখতে। তিনি বললেন, ‘আমি মেট্রো চাপিনি। তবে দূরপাল্লার ট্রেনে এসি কামরায় সফর করেছি। লোকাল ট্রেনও যে এসি হতে পারে, সেটা দেখার জন্যই এসেছি।’
এদিন বনগাঁ লাইনের প্রথম এসি লোকালের যাত্রীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অনেকে না জেনে সাধারণ ট্রেনের টিকিট কেটে এই ট্রেনে ওঠায় ফাইন দিতে হয়েছে। কয়েকজন পুরুষ মহিলা কামরার উঠে পড়েন। কারণ, কোন কামরা মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, তা লেখা নেই বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় যাত্রীরা অপেক্ষা করছেন সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনের জন্য। সেদিনই বোঝা যাবে, বনগাঁ লোকালের ‘কুখ্যাত’ ভিড় কীভাবে সামাল দেয় ‘দ্রুতগামী মেট্রো’!