Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

চার্চ-হোটেলে জঙ্গি হানার নির্দেশ দেন তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধানই, শ্রীলঙ্কার সংসদে জানালেন মন্ত্রী

শ্রীলঙ্কার সংসদে জানানো হল, ২০১৯ সালের জঙ্গি হামলার নির্দেশ তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান সুরেশ সাল্লের। কেন এই খবর গুরুত্বপূর্ণ জানুন।

চার্চ-হোটেলে জঙ্গি হানার নির্দেশ দেন তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধানই, শ্রীলঙ্কার সংসদে জানালেন মন্ত্রী
  • ১১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলম্বো: রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফের টলমল ভারতের প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। অনেক টালবাহানার পর বুধবার অবশেষে শ্রীলঙ্কার সংসদে বিস্ফোরক তথ্য পেশ করলেন সেদেশের জন সুরক্ষা এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনন্দ বিজেপালা। সংসদে তিনি জানালেন, ২০১৯ সালের ইস্টারে গির্জা এবং হোটেলে আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হয়েছিল দেশের তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধান সুরেশ সাল্লের নির্দেশেই। শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ানক সেই জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয় ২৭৯ জনের। এই প্রথম সরকারিভাবে সেই হামলায় তৎকালীন গোয়েন্দা প্রধানের যোগসাজশের কথা স্বীকার করে নিল শ্রীলঙ্কা সরকার। তদন্তকারীদের আর্জি মেনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের দেশ ছাড়ার উপরও এদিন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। এই মামলায় তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সূত্রের খবর।

Advertisement

২০১৯ সালের ২১ এপ্রিল ছিল ইস্টার সানডে। শ্রীলঙ্কার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষজন যখন আনন্দে মেতে উঠেছে, তখনই কলম্বোর দু’টি ক্যাথলিক চার্চ, একটি প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ এবং তিনটি হোটেলে পরপর আত্মঘাতী হামলা হয়। সেই হামলায় নিহতদের মধ্যে ছিলেন বহু বিদেশি পর্যটক। জখম হন বহু মানুষ। প্রাথমিক তদন্তে এই হামলার পিছনে আইএস প্রভাবিত স্থানীয় একটি জঙ্গি সংগঠনকেই দায়ী করা হয়। তবে মোর ঘুরিয়ে দেয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ফোর’-এর ২০২৩ সালের অন্তর্তদন্ত। এক হুইসলব্লোয়ারের বয়ান তুলে ধরে তারা দাবি করে, ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই সরকারি মদতে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দীর্ঘদিনের তদন্তের পর গত ফেব্রুয়ারিতে প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান সুরেশ সাল্লেকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। বুধবার শ্রীলঙ্কার সংসদে মন্ত্রী আনন্দ বিজেপালা বলেন, ‘তদন্তে জানা গিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সুরেশ সাল্লে এই হামলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনিই গির্জায় বোমা বিস্ফোরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, সাল্লেই একটি ক্যাথলিক চার্চকে হামলার জন্য চিহ্নিত করেছিলেন। ঘটনার তিন সপ্তাহ আগে তিনি ওই জঙ্গি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। তবে পুরো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন সাল্লে। তাঁর রেহাইয়ের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে বহু গণ সংগঠন। সেই সঙ্গে সাল্লেও অনশন শুরু করেছেন। তাঁকে এখন হাসপাতালে রাখা হয়েছে। 
বিস্ফোরণের দু’দিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসাবে নিজের নাম ঘোষণা করেন রাজাপাকসে। ইসলামি জঙ্গিদের দেশছাড়া করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে বছরের নভেম্বরের নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। আর নির্বাচনে জিতেই সাল্লেকে স্টেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (এসআইএস) ডিরেক্টর করে দেন। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসের যোগসাজশের কথা বলা হয়নি। তবে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ