নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: জগৎপ্রভু জগন্নাথের মাসির বাড়ি যাত্রা বা রথ উৎসব একটি লীলা। ভক্ত মহলে জনশ্রুতি, সেখানে তিনি বৃন্দাবনের গোপিনীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। তাতে অবশ্য ভক্তদের জন্য জুটে যায় দেবলীলকে ঘিরে বাড়তি উৎসবের সুযোগ। এমনই এক উৎসব হল ‘ভাণ্ডার লুট’। শতাব্দী প্রাচীন গুপ্তিপাড়ায় উলটোরথের আগের আগের দিন মহা সমারোহে হয়েছে ‘ভাণ্ডার লুট’। জগৎপতিকে শ্রীপাটে ফিরিয়ে আনতে স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী ‘গুন্ডা’ পাঠিয়ে মাসির বাড়ির যাবতীয় খাবার লুট করিয়েছিলেন। পরের দিনই অভুক্ত জগৎপতি ফিরে আসেন মন্দিরে। সেটিই উলটোরথ। এবার সেই ভাণ্ডার লুট অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দল এবং গুপ্তিপাড়ার রথ আয়োজকদের সূত্রে এমনই তথ্য মিলেছে।
সাম্প্রতিককালে এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী গুপ্তিপাড়ার ‘ভাণ্ডার লুট’ উৎসবে যোগ দিতে চলেছেন। তাঁর এই আগমনের পাশাপাশি ‘ভাণ্ডার লুটের’ বিপুল আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। মাসির বাড়িতে হাজার পদের রান্নার আয়োজনের সঙ্গে ‘লুণ্ঠনকারী’দের প্রস্তুত করতেও সরগরম হয়ে উঠেছে গুপ্তিপাড়ার বৃন্দাবনজিউ মন্দির প্রাঙ্গণ। এবার ২৩ জুলাই সেই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান হবে।
হুগলির মাহেশেও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা এবং উলটো রথ হয়। তবে সেখানে ‘ভাণ্ডার লুট’ অনুষ্ঠান নেই। স্বামী কেন মন্দিরে ফিরছেন না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন লক্ষ্মীদেবী, জগৎপতিকে বশ করতে সরষে পোড়া নিয়ে যান। কিন্তু তাতেও জগৎপতি ঘরে ফেরেন না। রাগে রথের অংশ বিশেষ ভেঙে দেন লক্ষ্মীদেবী। সেই অনুষ্ঠান হোড়াপোড়া নামে পরিচিত। মাহেশে তা সোমবার রাতে হয়ে গিয়েছে। গুপ্তিপাড়াতেও বশীকরণ মন্ত্র কাজ করে না। তখন লক্ষ্মীদেবীর মনে হয়, তাঁর পেটুক স্বামী খাবারের লোভে মাসির ঘর ছেড়ে ফিরছেন না। তাই তিনি একদল ‘গুন্ডা’কে জগৎপতির মাসির বাড়ি গুন্ডিচায় পাঠিয়ে দেন। দেবীর আদেশে তাঁরাই সমস্ত খাবার লুট করে নেয়। তারপরেই জগৎপতি উলটোরথে চেপে ঘরে ফেরেন। গুপ্তিপাড়ার সেই বিরল উৎসবকে কেন্দ্র করে ভক্তমহলে বছরের পর বছর ধরে তুমুল উৎসাহ দেখা গিয়েছে। অনেকেই মনে করেন দেবতার ভোগ লুট করে সংগ্রহ করতে পারাও পূণ্য কর্ম। তাই অনেকেই লুণ্ঠনকারী সাজতে চান।
আবার, জগৎপতির মতো ভক্তদের কাছেও নানা পদের সমাহারও এক লোভনীয় বিষয়। তবে মজা হচ্ছে, জগৎপতি উল্টোরথে শ্রীপাটে ফিরলেও দেবী লক্ষ্মীর অভিমান কমে না। তখন জগৎপতি দায়িত্ব নিয়ে সাধ্য সাধনা করে উপহারের প্রস্তাব দিয়ে শ্রীমুখে হাসি ফোটান। সেসবও ভক্তদের আগ্রহে ভিন্ন এক উৎসবের আকার নেয়। তবে তার আগে এখন প্রস্তুতি ‘ভাণ্ডার লুট’-এর। এই যে অনুষ্ঠানে এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরও উপস্থিত থাকার কথা ।