


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর, কলকাতা ও হাওড়া: মহানগরীর পরিবহণ ব্যবস্থায় নবতম সংযোজন মেট্রো করিডরের তিন লাইন ঘিরে উচ্ছ্বাস, আর উন্মাদনা যাত্রী মহলে। শুধু সময় নয়, সাশ্রয় হচ্ছে পকেটের রেস্তও। হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ (গ্রিন লাইন), নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর (ইয়েলো লাইন) এবং কবি সুভাষ থেকে বেলেঘাটা (অরেঞ্জ লাইন) রুটে সোমবার যে জনউন্মাদনা আর উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে, তাতে এককথায় সুপার-ডুপার হিট যাত্রী পরিবহণের নয়া সংযোজন। যাত্রী উন্মাদনার এই আবর্তে কয়েকটি খামতিও সামনে এসেছে। উঠে এসেছে যাত্রীদের প্রাসঙ্গিক দাবিও। হাওড়া ময়দান ও হাওড়া মেট্রো স্টেশনে এদিন যাত্রীদের ভিড় বিগত দিনের অফিস টাইমের তুলনায় অন্তত ১৫ গুণ বেশি বলে বলছেন মেট্রো কর্তারা। এই ভিড় সামলানোই এখন প্রথম কাজ বলে মনে করছেন তাঁরা। সেই অনুযায়ী টিকিট কাউন্টার এবং ব্যাগ স্ক্যানারের সংখ্যা যে বাড়াতে হবে, তা উপলব্ধিতে নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর রুটের পরিষেবায় সন্তুষ্ট হলেও, রাত ৮টার পরিবর্তে ১১টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। আবার কবি সুভাষ থেকে শুরু হওয়া অরেঞ্জ লাইনের এখনকার প্রান্তিক স্টেশন বেলেঘাটায় নামলে, ব্যস্ত ই এম বাইপাস পারাপার করাটা যাত্রীদের পক্ষে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বেলেঘাটা স্টেশন থেকে ই এম বাইপাসের মেট্রোপলিটন অংশ সংযোগকারী ফুট ওভারব্রিজ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা যে থাকবে—মানছেন মেট্রো কর্তারা।
তবে শহরের পরিবহণ ক্ষেত্রের নবতম সংযোজন নিয়ে যাত্রীদের উন্মাদনা কিন্তু তুঙ্গে। নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুরেশ রায়। কর্মসূত্রে প্রায়ই যেতে হয় গোয়ায়। বাড়ি থেকে বিমানবন্দর পৌঁছতে এতদিন অ্যাপ ক্যাবের উপরই ভরসা করতেন। তাঁর কথায়, ‘সাধারণ সময়ে ক্যাবের ভাড়া লাগত ২৫০-৩০০ টাকা। কিন্তু বৃষ্টি-বাদলা হলে সেই ভাড়া লাফিয়ে ৫০০ টাকায় পৌঁছত। কিন্তু আজ দেখুন! বাড়ি থেকে ২০ টাকা রিকশ ভাড়ায় পৌঁছেছি নোয়াপাড়া মেট্রো স্টেশন। সেখান থেকে ২০ টাকা ভাড়ায় মেট্রো চেপে বিমানবন্দর। ৩০০ টাকার খরচ মাত্র ৪০ টাকায় মিটে গেল।’ ১২টার নির্ধারিত ফ্লাইট ধরতে নৈহাটির বাসিন্দা অমিত দত্ত সকালে এসি লোকালে চেপে দমদমে নেমেছিলেন। সেখান থেকে মেট্রো ধরে নোয়াপাড়া। ফের সেখান থেকে এয়ারপোর্ট। তাঁর কথায়, ‘সোজা বাড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে এলে হাজার টাকার বেশি খরচ হতো। আবার দমদম থেকে গাড়ি ভাড়া করলে, খরচ হতো কমপক্ষে ৪০০ টাকা। যানজট তো ছিলই। আর আজ তো নামমাত্র টাকায় নির্বিঘ্নে পৌঁছে গেলাম। তবে মেট্রো কর্তৃপক্ষের কাছে একটাই অনুরোধ, পরিষেবার সময়সীমা বাড়াতে হবে। রাত ১১টা পর্যন্ত চালু থাকলে সবার উপকার হয়। রাতে প্রচুর ফ্লাইট নামে। রাত ১০টা ২০ মিনিটে এয়ারপোর্ট থেকে হাওড়াগামী শেষ এসি বাস। সেটা চলে যাওয়ার পরই গাড়ি চালকদের দাপট বাড়ে। চড়চড়িয়ে বেড়ে যায় ভাড়া।’