নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: একে স্কুল-কলেজে গরমের ছুটি। তার উপর কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে হাঁসফাঁস গরম। আর এর থেকে রেহাই পেতে পাহাড়মুখী পর্যটকরা। সিকিমের পাশাপাশি শৈলশহর দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। ডুয়ার্সেও ঢল নেমেছে ট্যুরিস্টের। তবে গত কয়েকদিন ধরে এত বেশি সংখ্যক পর্যটক দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসছেন যে, পাহাড়িপথে কয়েক কিমি জুড়ে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ছে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যে পথ গাড়িতে তিন ঘণ্টায় পৌঁছে যাওয়া যায়, সেখানে এখন সময় লাগছে প্রায় সাত ঘণ্টা।
অভিযোগ, পর্যটকদের ঢল নামায় একাংশ চালক লাগামছাড়া গাড়ি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে এনজেপি থেকে দার্জিলিং যেখানে গাড়ি রিজার্ভ করলে তিন হাজার টাকায় এতদিন যাওয়া যেত, সেখানে লাগছে পাঁচ হাজার টাকা। কোনো কোনো চালক আরও বেশি ভাড়া হাঁকছেন। দার্জিলিং থেকে ফেরার সময় পর্যটকরা যদি মিরিক হয়ে এনজেপিতে পৌঁছতে চান, সেক্ষেত্রে তাঁদের সাত হাজার টাকা পর্যন্ত গাড়িভাড়া গুণতে হচ্ছে।
নৈহাটির বাসিন্দা শালিনী ঘোষ বুধবার দার্জিলিংয়ে পৌঁছেছেন। সাতজনের টিম রয়েছে তাঁদের। এদিন সন্ধ্যায় টেলিফোনে তিনি বলেন, এনজেপিতে নামার পর গাড়িতে দার্জিলিংয়ে পৌঁছতে আমাদের সাত ঘণ্টা সময় লেগেছে। ৬ হাজার টাকা গাড়িভাড়া নেওয়া হয়েছে। বারাসতের বাসিন্দা অপূর্ব দাস বলেন, এর আগে একাধিকবার পাহাড়ে এলেও এবারের মতো অভিজ্ঞতা হয়নি কখনও। তাঁর দাবি, ঘুম থেকে দার্জিলিং মাত্র ৬ কিমি পথ পেরতে গাড়িতে দু’ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। আমাদের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা গাড়িভাড়া নেওয়া হয়েছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি ও যানজটের কারণে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করে নিলেও নিউ জলপাইগুড়ি ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের তরফে বিজয় রাউতের দাবি, পাঁচ-সাত হাজার টাকা গাড়িভাড়া নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। এখন বাইরের কোনো গাড়িতে যদি ওই ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আমাদের কী করার আছে।
দার্জিলিংয়ের লোয়ার তুমসুং রোডের এক হোটেল মালিক জীবন নন্দী বলেন, ম্যালে এত পর্যটক যে, কার্যত পা ফেলা যাচ্ছে না। হোটেলগুলি একশো শতাংশ বুকড। অনেক সময় পর্যটকদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত পর্যটকদের বুকিং রয়েছে। হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, দার্জিলিংয়ে সমস্ত হোটেল মিলিয়ে মোটামুটি দু’হাজার রুম রয়েছে। গ্যাংটকে রুমের সংখ্যা পাঁচ হাজারের মতো। কিন্তু পরিকাঠামোর চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক আসার ফলে যা অবস্থা হয়, সেটাই এখন হয়েছে শৈলশহরে। ডুয়ার্স ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক দিব্যেন্দু দেব বলেন, লাটাগুড়ি, মূর্তি সহ ডুয়ার্সের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে এই মুহূর্তে হোটেলে ৮০ শতাংশ রুম বুকড।