Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হেরিটেজের মর্যাদা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ: বিশ্বভারতীর উপাচার্য

‘বিশ্বভারতীর মঙ্গল সাধনের দায়িত্ব আমার একার নয়। এ দায়িত্ব আমাদের সকলের। হেরিটেজের মর্যাদা শুধু পেলেই হবে না, ধরে রাখতেও হবে।’

হেরিটেজের মর্যাদা ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ: বিশ্বভারতীর উপাচার্য
  • ১০ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বোলপুর: ‘বিশ্বভারতীর মঙ্গল সাধনের দায়িত্ব আমার একার নয়। এ দায়িত্ব আমাদের সকলের। হেরিটেজের মর্যাদা শুধু পেলেই হবে না, ধরে রাখতেও হবে।’ ২৫ বৈশাখ কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শুক্রবার অনুষ্ঠানের ফাঁকে একথা বলেন  বিশ্বভারতীর নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। তিনি আরও বলেন, আমাদের অমনোযোগ ও অবহেলায় বিশ্বভারতীর বুকে কিছু ক্ষয়চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তার মানে, কোথাও হয়তো উপযুক্ত পরিচর্যার কিছু ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সেজন্য আমাদের কাজে নামতে হবে।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহু কষ্টে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে সাধারণের হাতে সমর্পণ করে দিয়েছেন। এখন তার পরিচর্যার দায়িত্ব আমাদের। শান্তিনিকেতন কর্মী মণ্ডলী আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া, অধ্যাপক সকলেই যথাযথ মর্যাদায় কবিগুরুকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।

Advertisement

এদিন ভোর ৫টায় গৌর প্রাঙ্গণ থেকে বৈতালিক আয়োজন করা হয়। মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় পাঠভবন সংলগ্ন মাধবীবিতানে। সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের ‘তাসের দেশ’ পরিবেশন করেন শিক্ষাসত্রের পড়ুয়ারা। মাধবীবিতানে, সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন,রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের বিশ্বভারতী কেবলমাত্র বিদ্যাচর্চার প্রতিষ্ঠান নয়। এই প্রতিষ্ঠান সারা বিশ্বের মানুষের মিলনকেন্দ্র। বিশ্বভারতীকে গড়ে তোলার জন্য রবীন্দ্রনাথ যা করেছেন, তাকে কঠোর সাধনা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। তিনি বিশ্বভারতীর স্বপ্নকে রূপ দেওয়ার জন্য বহু পরিশ্রম করেছেন। তখন টাকার অভাব ছিল। সেই অভাব পূরণ করতে তাঁকে অন্যের কাছে হাত পাততেও হয়েছে। কিন্তু তাঁর এই ত্যাগ স্বীকার সার্থক হয়েছিল। এখন বিশ্বভারতীর মর্ম উপলব্ধি করেছেন বিশ্বের মানুষ। শান্তিনিকেতন হয়ে উঠেছে বিশ্বতীর্থ। শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতী আজ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই মর্যাদাপ্রাপ্তি আমাদের কাছে কম গৌরবের কথা নয়। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, মর্যাদা শুধু পেলেই হবে না, ধরে রাখতেও হবে। তিনি আরও বলেন, ফুলের বাগান যতই সুন্দর হোক, নিয়মিত পরিচর্যা না করা হলে তা কিছুদিনের মধ্যেই আগাছার জঙ্গলে পরিণত হবে। তখন তাকে আর ফুলের বাগান বলা যাবে না। এই সতর্কতা আমাদের বিশ্বভারতীর জন্য প্রয়োজন। আমি একসময় এখানে ছাত্র হিসেবে এসেছিলাম, তখন শিক্ষার্থী ছিলাম। এখন আমার উপরে একটা গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তবে আমি মনে করি, বিশ্বভারতীর মঙ্গলসাধনের দায়িত্ব আমার একার নয়, আমাদের সকলের। আমরা বুঝতে পারছি, কিছুটা যুগের প্রভাবে, অমনোযোগ ও অবহেলায় বিশ্বভারতীর বুকে কিছু ক্ষয়চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। তারমানে, কোথাও হয়তো উপযুক্ত পরিচর্যার কিছু ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের শুধু দর্শক হিসেবে থাকলেই চলবে না, কাজে নামতে হবে। আজ, ২৫ বৈশাখ গুরুদেবের জন্মদিনে, আসুন সবাই সঙ্কল্প করি, কোথাও বিশ্বভারতীর মর্যাদা লাঘব দেখা দিলে আমরা তা রোধ করব। বিশ্বভারতীর সার্বিক উন্নতির জন্য সকলেই সচেতন থাকব ও সচেষ্ট হব। এই সঙ্কল্পই হোক এবারের ২৫ বৈশাখে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।  বোলপুরে তোলা নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ