Bartaman Logo
২১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সরকারের পরিবর্তে শিল্পপতিরা আমার কাছে আসছেন, এটা বিপজ্জনক: শমীক

বাংলায় নতুন সরকার আসার পর শিল্পমহলের সবচেয়ে ‘কাছের মানুষ’ হয়ে উঠেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য।

সরকারের পরিবর্তে শিল্পপতিরা আমার কাছে আসছেন, এটা বিপজ্জনক: শমীক
  • ২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলায় নতুন সরকার আসার পর শিল্পমহলের সবচেয়ে ‘কাছের মানুষ’ হয়ে উঠেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য শমীক ভট্টাচার্য। গোড়া থেকেই একের পর এক বণিকসভার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির পদ অলংকৃত করেছেন তিনি। সরকারের শিল্প-ভাবনার অভিমুখ কোন দিকে যেতে পারে, শিল্পসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তার প্রথম বার্তা দিয়েছেন তিনিই। জমির উর্ধ্বসীমা আইন থেকে শুরু করে ইনসেন্টিভ পলিসি— বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেছেন শমীকবাবু। স্বাভাবিক কারণেই শিল্প বা বিনিয়োগ সম্পর্কে যাবতীয় আবদার মেটানোর জন্য তাঁকেই  সরকারপক্ষের ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’ হিসেবে ভেবে নিয়েছেন উদ্যোগপতিরা। তাঁকে ঘিরে শিল্পমহলের এই উৎসাহকে ‘বিপজ্জনক প্রবণতা’ হিসেবে দেখছেন শমীকবাবু নিজেই। বুধবার শিল্পমহলেরই এক অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গ আনেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, আগে পার্টি, পরে সরকার—এই সংস্কৃতি এখানে দীর্ঘদিনের। সেই ভাবনা থেকে মুক্ত হতে পারেননি শিল্পপতিরা। এর থেকে মুক্তির দরকার।

Advertisement

এদিন ‘বিজনেস আালাদিন’ নামে একটি এআইভিত্তিক অনলাইন ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শমীকবাবু। সেখানেই তিনি বলেন, নতুন সরকারের দেড় মাসের মেয়াদে প্রথিতযশা শিল্পপতিরা দেশের নানা প্রান্ত থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আগে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, পরে সরকারের সঙ্গে। এটি বিপজ্জনক দিক। এমনকী আজকের অনুষ্ঠানেও সরকারপক্ষের কেউ আসেননি। আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি আরও বিপজ্জনক প্রবণতা। আমরা এই ভাবনা থেকে শিল্পমহলকে মুক্ত করতে চাই। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শমীকবাবু। বলেন, শিল্পমহলের মানসিকতাই হয়ে গিয়েছে, যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দল নেবে, পরে সরকার। রেলের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে রেলমন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদীর সিদ্ধান্ত এবং সিঙ্গুর প্রসঙ্গ সামনে এনে সরকারের উর্ধ্বে উঠে পার্টির অবস্থান মনে করিয়ে শমীকবাবু বলেন, এই প্রবণতামুক্ত বাংলা গড়ব আমরা। 
এদিন ফের ভারি শিল্পের হয়ে সওয়াল করেন শমীকবাবু। বলেন, অনুসারী শিল্প তখনই বাড়বে, যখন বড় শিল্প আসবে। কারণ এমএসএম সেক্টরেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এরাজ্যে বড় বিনিয়োগ আনার বিষয়ে সিঙ্গুর ইস্যু যে বড় ভূমিকা নিয়েছে, তা নিয়ে আগেও সরব হয়েছিলেন শমীকবাবু। এদিন তারই সঙ্গে নন্দীগ্রামকেও জুড়ে দেন তিনি। বলেন, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ইস্যু এখানকার শিল্পের বাতাবরণ নিয়ে ভুল বার্তা দিয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যাঁরা এরাজ্যে সবচেয়ে ভালো শিল্প পরিবেশ রয়েছে বলে প্রচার করতেন, তাঁরাই বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে লগ্নি সরিয়ে নিয়ে যেতেন, এমনই অভিযোগ করেন তিনি। বঙ্গ বিজেপি সভাপতির বার্তা, আগামী এক বছরের মধ্যে শিল্পমহল বুঝতে পারবে, এখানে প্রকৃতই শিল্পবান্ধব সরকার এসেছে। ছবি: ভাস্কর মুখোপাধ্যায়

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ