


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: তিরুবনন্তপুরমের ছোট্ট গ্রাম থুম্বা থেকে প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ হয়। অতঃপর এসেছে একে একে সাফল্য—চন্দ্রযান-১, মঙ্গলের অরবিটর মিশন থেকে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩’র বিশ্বজয়। গগনযান, মহাকাশ স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা থেকে চাঁদের মাটিতে পা রাখার প্রস্তুতি। কলকাতায় ইন্ডিয়ান ক্রায়োজেনিক কাউন্সিলের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এসে ১৯৬৩ থেকে ২০২৫, এমনকি ২০৪০ সালের পরিকল্পনাও তুলে ধরলেন ইসরোর চেয়ারম্যান ডঃ ভি নারায়ণন। তবে, শুধু মহাকাশ গবেষণাই নয়, দেশের স্বার্থে স্ট্র্যাটেজিক ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে ইসরো। এই প্রসঙ্গ তুলে চেয়ারম্যান বলেছেন, অপারেশন সিন্দুরে স্যাটেলাইট ডেটা দিয়েছি আমরা। এটা দেশের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়।
‘ক্রায়োজেনিক’—যাকে বলা হয়, লো টেম্পারেচার ফিজিক্স। অর্থাৎ, অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় পদার্থ বা বস্তুর আচরণ নিয়ে গবেষণা। ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন, মহাকাশ প্রযুক্তিতে রকেটের জ্বালানি, খাদ্য সংরক্ষণে খাদ্যকে দীর্ঘসময় সতেজ রাখা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে টিস্যু বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংরক্ষণ, গ্যাস পরিবহণের ক্ষেত্রে তরল করে ছোটো আকারে পরিণত করা ইত্যাদি। ১৯৭৫ সালে কলকাতাতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান ক্রায়োজেনিক কাউন্সিলের সম্মেলন। ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সল্টলেকে অবস্থিত দেশের পরমাণু শক্তি বিভাগের অধীনস্থ অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারে (ভিইসিসি) ইন্ডিয়ান ক্রায়োজেনিক কাউন্সিলের ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ছিল উদ্বোধন। অনুষ্ঠানটি শেষ হবে আজ শুক্রবার। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসরো চেয়ারম্যান। তাঁকে বাংলার ডোকরা শিল্পের দুর্গা উপহার দেওয়া হয়। আরও ছিলেন ভ্যারিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারের ডিরেক্টর সুমিত সোম, ইন্ডিয়ান ক্রায়োজেনিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডঃ আর জি শর্মা-সহ একাধিক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী।
ইসরো চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৬৩ সালের ২১ নভেম্বর তিরুবনন্তপুরমের গ্রাম থুম্বা থেকে আমাদের দেশে প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই রকেট দিয়েছিল। তারপর আমরা একের পর এক ইতিহাস তৈরি করেছি। চন্দ্রযান-১ সফল হয়েছে। এছাড়া সফল হয়েছে মঙ্গলে মার্স অবরিটর মিশন। ৬৯ কোটি কিমি পরিভ্রমণ করেছে সেটি। চন্দ্রযান-৩ অভিযানে সারা পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র ভারতই চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি সফল অবতরণ করতে পেরেছে। গত জুলাই মাসে আমরা আরও একটি মাইলস্টোন তৈরি করেছি। নাসার সঙ্গে যৌথভাবে নাসা-ইসরো সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার স্যাটেলাইট লঞ্চ করা হয়েছে। আরও একাধিক নতুন মিশনের প্রস্তুতি চলছে। মহাকাশ গবেষণায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে ভারত।