ইসলামাবাদ: সন্ত্রাসবাদে ‘মদতদাতা’ পাকিস্তানের গলাতেই উল্টো সুর! সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধ করার বার্তা দিতে আফগানিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাতে চলেছে ইসলামাবাদ। কয়েক বছর ধরেই ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য সন্ত্রাসবাদীদের মদত দিয়ে চলেছে আফগানিস্তান। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির অধিবেশনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানে হামলা চালানোর জন্য আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে চলেছে জঙ্গিরা। অথচ তালিবান সরকার এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপই করছে না। বারবার বলার পরেও জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ না হওয়ায় পাকিস্তানের ধৈর্যও ক্রমশ কমছে। তাই পাকিস্তান যে আর সীমান্ত সন্ত্রাস সহ্য করবে না, সেই বার্তা দেওয়ার জন্যই কাবুলে তালিবান সরকারের কাছে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে কাবুলে হঠাৎ পাকিস্তান ‘এয়ার স্ট্রাইক’ চালিয়েছে বলে জল্পনা ছড়ায়। একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে আফগানিস্তানের রাজধানী শহর। বৃহস্পতিবারই ভারত সফরে এসেছেন সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তার মধ্যেই ‘পাক-হামলা’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, পাক সেনার আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানি তালিবানের (টিটিপি) প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ। পাকিস্তান মেহসুদের নাম উল্লেখ না করলেও দাবি করেছে, তাদের হামলায় ৩০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। তবে, টিটিপি প্রধান পরে এক বার্তায় দাবি করেছেন, তিনি অক্ষত। তালিবান সরকার অবশ্য এই হামলা নিয়ে বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। বিস্ফোরণে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কেন এমন ঘটল তা খতিয়ে দেখা হবে বলেই দায় সেরেছে তারা।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, তিন বছর আগে তিনি আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন। সেই সময় তালিবান সরকার জানিয়েছিল, পাকিস্তানি মুদ্রায় ১০০০ কোটি টাকা পেলে তারা জঙ্গি সংগঠন টিটিপিকে দুই দেশের সীমান্ত থেকে সরানোর ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা না দেওয়ায় সেই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার জঙ্গি হামলা হয়েছে, যাতে প্রাণ গিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্যের। তাই পাকিস্তান হোক বা আফগানিস্তান—যারাই জঙ্গিদের সাহায্য করবে, তাদের ছাড়া হবে না বলেও ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়েছেন আসিফ!