


ইস্ট বেঙ্গল- ০ : পাঞ্জাব এফসি- ০
শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: আইএসএলে এই প্রথম খেতাবি দৌড়ে প্রবলভাবে রয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। কোচ অস্কার ব্রুজোঁর উচিত ছিল, পরিকল্পিত পথে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু পাঞ্জাব ম্যাচের আগে তিনি হঠাৎই সময় কাটালেন আলভিটো-নবিদের দায়ী করে। তারই কি প্রভাব পড়ল পারফরম্যান্সে? সোমবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নির্বিষ ফুটবল খেলে পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ড্র ইস্ট বেঙ্গলের। ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে এখনও লিগ শীর্ষে মশাল বাহিনী। তবে মঙ্গলবার ইন্টার কাশীকে হারালেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে যাবে মোহন বাগান (১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট)। সেক্ষেত্রে মর্যাদার ডার্বিতে জিততেই হবে ইস্ট বেঙ্গলকে।
এদিন টিম লিস্ট দেখে অনেকেই অবাক। প্রথম দলে নেই সাউল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পেশিতে টান থাকায় শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হন অস্কার। যাই হোক, স্প্যানিশ মিডিও না থাকার সুযোগে মাঝমাঠে জাঁকিয়ে বসল পাঞ্জাব। দুই বিদেশি মিডফিল্ডার জেলজোভিচ ও রামিরেজের দাপটে দিশাহারা ইস্ট বেঙ্গল। বিপিন, মিগুয়েলদের রুখতে দারুণ হোমওয়ার্ক করেছিলেন পাঞ্জাব কোচ প্যানাজিওটিস। জোনাল মার্কিং তো ছিলই। বিপিনরা বল ধরলেই শরীরে ঢুকে ট্যাকল করলেন কিপজেনরা। বল না পেয়ে বিপক্ষের পায়ের জঙ্গলে হারিয়ে গেলেন ইউসেফ। তাঁর অফ দ্য বল মুভমন্টেও শূন্য। চাপ কমাতে শুরুতেই লক্ষ্যভেদ চেয়েছিলেন অস্কার। উলটে ম্যাচের শুরুতেই লিড নিতে পারত পঞ্চনদের ক্লাবটি। ৬ মিনিটে রামিরেজের জোরালো শট পোস্টে প্রতিহত হয়। ১৭ মিনিটে চমৎকার টার্ন নিয়ে শট নিয়েছিলেন কিপজেন। এক্ষেত্রেও বল জমা পড়ে গিলের হাতে। লাল-হলুদের ডিফেন্সিভ থার্ডে অসংখ্য পাস খেলল পাঞ্জাব। খেলা দানা বাঁধার বদলে শৌভিক হলুদ কার্ড দেখায় তড়িঘড়ি জিকসনকে নামিয়ে দিলেন স্প্যানিশ কোচ। পরিবর্তন নিয়ে স্পষ্টতই অখুশি ছিলেন বঙ্গসন্তান। ডাগ-আউটে সতীর্থরা সামলান তাঁকে। উল্লেখ্য, আগামী রবিবারের ডার্বিতে নেই শৌভিক। সবমিলিয়ে প্রথমার্ধের ইস্ট বেঙ্গল একেবারেই ছন্নছাড়া। এরইমধ্যে, ২৮ মিনিটে মিগুয়েলের থ্রু পাস পেয়ে গিয়েছিলেন বিপিন। তবে আগুয়ান পাঞ্জাব গোলরক্ষককে টপকাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বিষ্ণুকে চমৎকার বল বাড়িয়েছিলেন মিগুয়েল। কিন্তু সেন্টার জায়গায় রাখতে পারেননি কেরালাইট ফুটবলার। মিগুয়েল চেষ্টা করলেও সাপোর্টিং প্লে কোথায়? বরং এরপর ফের পাঞ্জাবের পালা। ৫২ মিনিটে লুংডিমের সেন্টারে দুরন্ত হেড করেছিলেন দেব। শরীর ছুড়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান গিল। মিনিট পাঁচেক পরেই মারাত্মক ভুল রশিদের। এক্ষেত্রে জেলকোভিটের পুশ ফিস্ট করে দুর্গরক্ষা করেন সেই গিল। রশিদের স্লো মোশন ফুটবলে কোনও ধার নেই। বাধ্য হয়েই ব্যক্তিগত দক্ষতায় জাল কাঁপানোর চেষ্টা করলেন মিগুয়েল। ৭৩ মিনিটে ব্রাজিলিয়ানের দুরন্ত ভলি পোস্টে প্রতিহত হয়। এই পর্বে পুরানো জায়গায় ব্যথা অনুভব করায় মাঠ ছাড়েন আনোয়ার। যা দেখে চিন্তিত সমর্থকরা। সংযোজিত সময়ে বিপক্ষ গোলকিপারকে এগিয়ে থাকতে দেখে নিখুঁত শট নিয়েছিলেন রশিদ। তা পোস্টে না লাগলে অসাধারণ গোলের সাক্ষী থাকত যুবভারতী।
ইস্ট বেঙ্গল: গিল, রাকিপ, আনোয়ার (জয়), কেভিন, লালচুংনুঙ্গা, শৌভিক (জিকসন), রশিদ, বিপিন, বিষ্ণু (নন্দ), মিগুয়েল ও ইউসেফ (সোয়বার্গ)।