Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাংলায় আইএস, আল কায়েদার স্লিপার সেল! তেলেঙ্গানা পুলিশের জালে বাঁকুড়ার এক জঙ্গি

আইএস এবং আলকায়েদার হয়ে বাংলায় মডিউল তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়ার খাতড়া থেকে মির আসিফ আলি নামে এক আলকায়েদা জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল তেলেঙ্গানা পুলিশ।

বাংলায় আইএস, আল কায়েদার স্লিপার সেল!  তেলেঙ্গানা পুলিশের জালে বাঁকুড়ার এক জঙ্গি
  • ২৭ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: আইএস এবং আলকায়েদার হয়ে বাংলায় মডিউল তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়ার খাতড়া থেকে মির আসিফ আলি নামে এক আলকায়েদা জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেল তেলেঙ্গানা পুলিশ। তার সঙ্গে পাকিস্তানে থাকা আলকায়েদা ও আইএস হ্যান্ডলারদের যোগাযোগ মিলেছে বলে খবর। অভিযুক্ত আসিফ এক্স হ্যান্ডেলে একে ৪৭ সিরিজের রাইফেল হাতে নেওয়া ছবি পোস্ট করে এই দুই জঙ্গি সংগঠনের হয়ে প্রচার এবং তরুণ সদস্য নিয়োগের কাজ করছিল স্লিপার সেল তৈরির জন্য।

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, বিহার, মহারাষ্ট্রসহ কয়েকটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে ১২ জন আলকায়েদা ও আইএস জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে তেলেঙ্গানা পুলিশ। তেলেঙ্গানার তিন জঙ্গির মোবাইল ও সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ঘেঁটে এই রাজ্যের জঙ্গি আসিফের নাম পান তদন্তকারীরা। এক্স হ্যান্ডেলে তার একে সিরিজের রাইফেল হাতে নিয়ে ছবি ধরা পড়ে। একইসঙ্গে ভারতের জাতীয় পতাকা পোড়ানোসহ ভারত বিরোধী বিভিন্ন কথাবার্তা তার প্রোফাইলে লেখা ছিল। এক্স হ্যান্ডেলের সূত্রে তার মোবাইল নম্বর হাতে আসে তেলেঙ্গানা পুলিশের। তার ভিত্তিতে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার খাতড়ার খরবোল গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে আসিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত জঙ্গি জেরায় জানিয়েছে, সে বিভিন্ন ধরনের অনলাইনে গেম খেলত। সেখানে এই দুই জঙ্গি সংগঠনের এজেন্টরা লুকিয়ে রয়েছে। তারা সফিককে জালে তোলার পর মগজ ধোলাই করে। সেখান থেকেই সে জঙ্গি ভাবাদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর তাকে একটি গ্রুপে যুক্ত করে তেলেঙ্গানা থেকে ধৃত তিন জঙ্গি। ওই গ্রুপেই ছিল পাকিস্তানে থাকা আইএস ও আলকায়েদার হ্যান্ডলাররা। ওই হ্যান্ডলাররাই আসিফকে ভারত বিরোধী কাজে উৎসাহিত করে। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় বাংলায় আইএস ও আলকায়েদার মডিউল তৈরি করতে। তদন্তে উঠে এসেছে, বছর দুই আগে সে জঙ্গিদের সংস্পর্শে এসেছিল। পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের নির্দেশে নয়ডা গিয়ে মোবাইল দোকানে কাজ নেয়। সে এক্স হ্যান্ডেলসহ নানা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রোফাইল খোলে। সেখানে জঙ্গি প্রমাণ করতে একে সিরিজের রাইফেল নেওয়া ছবি দেয়। একইসঙ্গে ভারত বিরোধী বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সে তরুণদের কাছে বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠাত। অনলাইনে তাদের মগজ ধোলাই করে নিয়োগ শুরু করে এই দুই জঙ্গি সংগঠনে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়ার ছেলেরাই ছিল তার টার্গেট। ধৃত জেরায় জানিয়েছে, প্রশিক্ষণের জন্য তার পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল। স্লিপার সেল চালানোর জন্য ওই হ্যান্ডলাররাই তাকে ফান্ড পাঠাচ্ছিল পাকিস্তান থেকে। মডিউলের কতজন রয়েছে ধৃতের প্রোফাইল ঘেঁটে জানার চেষ্টা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ