Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অধ্যাপক অপহরণ কাণ্ডে কি পেশাদার গ্যাং? তদন্ত করছে মালদহ পুলিস

জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যাপক তাপস কুমার মণ্ডলকে অপহরণ করার পিছনে কি পেশাদার গ্যাং? বর্তমানে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মালদহ জেলা পুলিশের মাথায়।

অধ্যাপক অপহরণ কাণ্ডে কি পেশাদার গ্যাং? তদন্ত করছে মালদহ পুলিস
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যাপক তাপস কুমার মণ্ডলকে অপহরণ করার পিছনে কি পেশাদার গ্যাং? বর্তমানে এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মালদহ জেলা পুলিশের মাথায়। তাদের দাবি, যেভাবে যে পদ্ধতি অবলম্বন করে দীর্ঘদিন রেইকি করে তাপসবাবুকে অপহরণ করার ছক কষা হয়েছিল তা প্রাথমিকভাবে দেখলে মনে হয়, এর আগেও ধৃতরা একাধিক এধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করার জন্য ইতিমধ্যেই মালদহ জেলা পুলিশ মেদিনীপুর জেলা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে। প্রত্যেক অভিযুক্তের পুরনো ইতিহাস ঘেঁটে দেখা হচ্ছে এর আগে তারা কোথাও অপরাধমূলক ঘটনা ঘটিয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ধৃতদের আদালতের নির্দেশে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। উল্লেখ্য, ৮ সেপ্টেম্বর মালদহের বাসিন্দা জলপাইগুড়ি পলিটেকনিক কলেজের অধ্যাপক তাপস কুমার মণ্ডলকে স্টেশন থেকে অপহরণ করে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে নিয়ে গিয়েছিল পাঁচ সদস্যের একটি দুষ্কৃতী দল। বারবার অপহৃত অধ্যাপকের মোবাইল থেকে ভিডিও কল করে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তিন কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। স্ত্রী এনিয়ে থানার দ্বারস্থ হতেই একে একে ঘটনার পর্দাফাঁস করে পুলিশ। কাঁথির একটি লজে মোবাইল ফোনের টাওয়ার চিহ্নিত করে পুলিশ। এরপরই মালদহের ইংলিশবাজার থানার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এবং স্থানীয় পুলিশ অপহৃত অধ্যাপককে উদ্ধার করার পাশাপাশি কাঁথি থেকে পাঁচ জন এবং পরে তাদের বয়ান শুনে মালদহ থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে। 

Advertisement

পুলিস জানিয়েছে, মালদহের অমৃত হালদার এবং কাঁথির কার্তিক গুছাইত এই অপহরণকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। চলতি বছরেই অমৃতের আরও একটি অপহরণ কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল। 
একই ভাবে কার্তিক এবং তার দলবলের কোনও পূর্ব অপরাধের অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না তা জানতেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, সামান্য একটি প্লাস্টিকের বন্দুক দেখিয়ে যেভাবে তাপসবাবুর স্ত্রীকে ভয় দেখানো হয়েছিল তা রীতিমতো প্রফেশনাল গ্যাং না হলে করা সম্ভব নয়। এছাড়াও নিজেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ করে রেখে অপহৃতের মোবাইল থেকে তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে মুক্তিপণের দাবিও সাধারণত পেশাদার গ্যাংগের দুষ্কৃতীরা করে থাকে। যদিও তদন্তকারীদের দাবি, শুধুমাত্র কাঁচাবুদ্ধির কারণেও এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
প্রচুর টাকা পাওয়া যাবে এই লোভেই কাঁচাবুদ্ধিতে অপহরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে অমৃতরা। 
মালদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্ভব জৈন বলেন, আমরা আপাতত ধৃতদের জেরা করে তদন্ত করছি। তাদের পিছনে কোনও পেশাদার গ্যাং ছিল কি না বা এর আগেও তারা কোনও অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল কি না, তা জানতে আমরা তদন্ত করছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ