সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ম্যাঙ্গানিজের সন্ধান ও সমীক্ষার হাত ধরে এবার কি বেলপাহাড়ী এলাকার সাদা পাথর পাচারের ঘটনা সামনে আসতে চলেছে! এলাকায় যা নিয়ে রীতিমতো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ীর শিমলাপাল, লবণী ও বাঁশপাহাড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় ম্যাঙ্গানিজের খোঁজে প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হবে। গত ১৯ আগষ্ট রাজ্য সরকারের ডিরেক্টর অফ মাইন্স অ্যাণ্ড মিনারেল দপ্তর থেকে এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বাম জমানা থেকে তৃণমূল সরকারের সময় পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে বেলপাহাড়ীর পাহাড় জঙ্গল অধ্যুষিত বিভিন্ন জায়গা থেকে লরি বোঝাই সাদা পাথরের পাচার হয়েছে বলে এলাকার বাসিন্দাদের দাবি।
কেঁন্দাপাড়ার হাঁসাডুংরি সাদা পাথরের পাহাড় থেকে পাথর পাচারের চিহ্ন এখনো রয়েছে বলেই জানান বাসিন্দারা। বহু বছর আগে বনবিভাগ থেকে আটক করা সাদা পাথর ভরতি একটি বড়ো লরি বেলপাহাড়ী থানায় এখনো রয়েছে। এই ঘটনার হাত ধরে বনবিভাগ ও বিভাগীয় প্রশাসনের থেকে তদন্ত খুব একটা এগয়নি। ২০২৩ সালে জামবনী, পড়িহাটির রাস্তা দিয়ে খড়গপুরের নিমপুরা যাওয়ার সময় আস্তপাড়া এলাকায় ওভারলোডিং সাদা পাথর ভরতি একটি বড়ো লরি আটক করে পুলিশ। ওই লরি চালকের থেকে বেলপাহাড়ীর সাদা পাথর কারবারিদের নিয়ে যাবতীয় তথ্য তাঁরা জানতে পারেন। কারা কারা যুক্ত, কোথায় পাথর পাচার হয়, ক’টি লরি দিয়ে পাথর পাঠানো হয় সব তথ্য পুলিশ সংগ্রহ করে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ এনিয়ে বেশি দূর এগতে পারেনি। ম্যাঙ্গানিজের খোঁজে আসা সমীক্ষক দলটি সাদা পাথরের পাচার ও কারবারের বিষয়টি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করবেন। এছাড়াও ম্যাঙ্গানিজ সন্ধানের জন্য সরকারের বিভাগীয় এই দপ্তর সাদা পাথরের এলাকাটিকে কেন বেছে নিলেন? তবে কি বীরভূমের পর এবার ঝাড়গ্রামের পাথর পাচার সামনে আসতে চলেছে? এনিয়ে এলাকায় কানাঘুষো অব্যাহত রয়েছে।
কেঁন্দাপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, এখনো সাদা পাথরের পাচার চলছে। রাতের অন্ধকারে পাথর ভরতি লরি ঝাড়খণ্ডে চলে যাচ্ছে। যদিও এনিয়ে এলাকার বিজেপির কেন্দ্র প্রমুখ সুরেশ মুড়া বলেন, রাজ্যে আমাদের নতুন সরকার গঠনের পর এখানে পাথর পাচার বন্ধ হয়েছে। ঝাড়খণ্ড এলাকায় হলে হতে পারে। জমি লিজ নিয়ে আইন কানুন মেনে পাথর নিলে এলাকার গরীব মানুষ কাজ ও টাকা দুইই পেতেন। এতকাল এসব কিছুই মানা হয়নি।