


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: আরজি কর মেডিকেলে ডাক্তারি পড়ুয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে ঘিরে বেনজির রাজনীতির সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। সিবিআই তদন্ত চেয়ে মামলা করা পরিবার এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকেই দুষছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিচারক মামলা থেকে সরে যাচ্ছেন। ভোটের আবহে সেই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের আচমকা সাক্ষাৎ ঘিরে পানিহাটি জুড়ে রাজনৈতিক জল্পনা তীব্র হয়েছে! সেই জল্পনা আরও বেড়েছে নির্যাতিতা ছাত্রীর মায়ের বয়ানে। বিজেপি নেতারা বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি বলেন, নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য আমি মানসিক ভাবে প্রস্তুত নই। এরপরই গুঞ্জন তীব্র হয়। তাহলে কি ভরাডুবির আশঙ্কায় ডাক্তারি পড়ুয়ার মাকে প্রার্থী করতে দৌড়ে এসেছিল বিজেপি নেতৃত্ব? যদিও বিজেপির তরফে বিষয়টিকে নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হয়েছে।
আরজি করে চিকিৎসক পড়ুয়া তরুণীর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কেঁপে উঠেছিল রাজ্যবাসী। বিচারের দাবিতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে মানুষও পথে নেমেছিলেন। কিন্তু যতদিন গিয়েছে, ততই রাজনীতির কানাগলিতে হারিয়ে গিয়েছে আন্দোলন। নির্যাতিতার পরিবার সিবিআই তদন্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এমনকি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বহুবার দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছেন। প্রকাশ্যে তা নিয়ে তাঁরা সমালোচনাও করেছেন। আবার বিজেপি নেতাদের ডাকে নবান্ন অভিযানেও তাঁরা অংশ নিয়েছেন। মুখোশের আড়ালের রাজনীতি দেখে, চরম সংকটের সময় পাশে থাকা বহু মানুষ এখন পরিবার থেকে অনেকটাই দূরে সরেছেন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার নির্যাতিতার পানিহাটির বাড়িতে যান প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং সহ স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। বেশ কিছু সময় কথাবার্তার পর তাঁরা বেরিয়ে যান। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নে নির্যতিতার মা বলেন, আমি ভোটে দাঁড়ানোর জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নই। অনেকেই প্রার্থী হতে বলছেন। তবে আমি মেয়ের ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। সিবিআইকে ক্লু দিলেও তারা তদন্ত করছে না। আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে বিচারক সরে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেকবারই প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছি। কিন্তু ওঁনারা দেখা করেননি। তবে কোনও দলের প্রার্থী হতে যে মানসিক প্রস্তুতি দরকার, আমার সেই প্রস্তুতি নেই।
তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। রাজনৈতিক মহল সূত্রের খবর, এবারের ভোটে বিশেষ কোনও মিরাকেলের আশা করছে না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ক্ষমতা দখল তো দূরাস্ত, গতবারের আসন ধরে রাখাই বিজেপির মূল চ্যালেঞ্জ। এর আগে একাধিকবার নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যদের প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, লাভ হয়নি। এবার বাড়িতে এসে কি সরাসরি বিজেপি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে? প্রাক্তন সাংসদ অর্জুনবাবু বলেন, নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎ। পারিবারিক কথাবার্তা হয়েছে। রাজনীতির আলোচনা হয়নি। তবে বিচার না পাওয়া ও সিবিআইয়ের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয়েছে। তবে ওঁনারাও চান, এই রাজ্য সরকারের পতন হোক।