রামপুর চেকপোস্টে দুর্নীতির তদন্ত কি গতি হারাচ্ছে, প্রশ্ন
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই সরকারি কর্মীদের দুনীর্তির প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম পদক্ষেপ করেছিলেন কুলটি থানার রামপুর চেকপোস্ট নিয়ে। তিনি ‘ডাণ্ডা ট্যাক্স’ নেওয়ার অভিযোগে দুই এমভিআই ‌ইনস্পেক্টরকে সাসপেন্ড করেন। পুলিশকে তদন্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ তদন্ত করে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তারপরে এই কাণ্ডে ‘দালালের’ ভূমিকা নেওয়া আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথম দু’মাসে এনিয়ে সক্রিয়তা থাকলেও এরপর নতুন করে মামলার অগ্রগতি দেখা যায়নি। তারই ম঩ধ্যে পরিবহণ মন্ত্রীর মন্তব্যে বেড়েছে জল্পনা। আট জেলার পরিবহণ আধিকারিকদের নিয়ে গত শনিবার আসানসোলে বৈঠক করেছিলেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁকে প্রশ্ন করা হয় রামপুর চেক পোস্ট নিয়ে কী তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে? উনি জানান, হ্যাঁ। 

Advertisement

মন্ত্রীর এই উত্তরে জল্পনা ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে। বীরভূমের পাথর কারবারের বেনিয়ম নিয়ে যখন একের পর এক গ্রেপ্তার হচ্ছে তখন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরও তদন্তের অগ্রগতি কোথায়। এই ঘটনায় তাহলে কি শুধুই দুই ইনস্পেক্টর অভিযুক্ত। কোনো বড়ো মাথার নির্দেশ ছাড়াই চলছিল বেনিয়ম? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাটি অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো নিয়েছে। তাঁরাও  এদিন কোনো ধড়পাকড় করেনি। 
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর থেকে পরিবহণ দপ্তরের রাজস্ব আদায় অনেকখানি কমেছে। জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই রাস্তার উপর গাড়ি চেকিং করার সংখ্যা অনেকগুণ কমে গিয়েছে। যার ফলে নিয়ম ভেঙে সামগ্রী পরিবহণ হলেও জরিমানা আদায় সেভাবে হচ্ছে না। রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় রাজ্য সরকারের চিন্তা বাড়ছে। এদিন আসানসোলে পরিবহণ মন্ত্রীর বৈঠকের মূল বিষয় ছিল রাজস্ব আদায় বাড়ানো। পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং বলেন, লিকেজ বন্ধ করে রাজস্ব বৃদ্ধি করতেই আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। 
এই তদন্ত নিয়ে কটাক্ষ করেছে সিপিএম ও কংগ্রেস। সিপিএম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মনোজ দত্ত বলেন, বালি, কয়লা থেকে তৃণমূল আমলে হওয়া সব অবৈধ কারবারের সঙ্গেই তো বিজেপি নেতৃত্ব আপোস করে নিয়েছে। তাঁরা প্রথমে বেনিয়ম নিয়ে আওয়াজ তুলেও এখন বেনিয়মে মদত দিচ্ছে।
কংগ্রেস নেতা রবি যাদবের কথায়, বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকাতেই রামপুর চেকপোস্ট। ওই রাস্তা দিয়ে সব রকম অবৈধ পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।