Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

নবম গ্রহ কি হারিয়ে গিয়েছে?

সৌর জগৎকে নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ

নবম গ্রহ কি হারিয়ে গিয়েছে?
  • ১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০

সৌর জগৎকে নিয়ে আমাদের কৌতূহলের শেষ নেই। সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। আর ওই গ্রহগুলির উপগ্রহ। এছাড়াও সূর্যের এই সংসারে রয়েছে আরও অনেক সদস্য। বামন গ্রহ, গ্রহাণু, ধূমকেতু, গ্রহগুলির মাঝে ধূলিকণা। এই সৌরজগতের শেষ কোথায়, তা এখনও সঠিকভাবে জানা নেই। ওই রহস্যের উদ্ঘাটন করতে নিত্য গবেষণা চলছে। প্রতি মুহূর্তে নজর রাখছে বিজ্ঞানীদের ক্যামেরা। আর এমনই একটি ক্যামেরাতে এবার আশ্চর্য একটা বস্তু ধরা পড়ল। আশ্চর্য কেন বলা হচ্ছে? এর কারণ হল, এই বস্তুটি সৌরজগৎ সম্পর্কে এতদিনের একটা বিশেষ ধারণা বদলে দিতে পারে।

Advertisement

সূর্যের আটটি গ্রহ। বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।  কিছুদিন আগে পর্যন্ত প্লুটোকে নবম গ্রহের মর্যাদা দেওয়া হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে ‘গ্রহ’-এর তকমা হারায় প্লুটো। ‘বামন গ্রহ’ কুলেই তার এখন ঠাঁই হয়েছে। অথচ বিজ্ঞানীদের অনেকেরই ধারণা, সৌরজগতে আরও একটা গ্রহ থাকার কথা। কিন্তু তার খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। নেপচুনের ওপারে রয়েছে কুইপার বেল্ট। নেপচুনের পরই শুরু সৌরজগতের ওই বিস্তৃত অজানা জগৎ। এখানে প্লুটোর মতো বামন গ্রহ, বরফের পাহাড় আর অজস্র গ্রহাণু ভাসমান অবস্থায় ঘুরপাক খায়। এখানেই নবম গ্রহের হদিশ পাওয়া যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীদের একাংশের অনুমান। কিন্তু ওই অঞ্চলে যে আশ্চর্য জিনিসটি পাওয়া গিয়েছে, তা ওই ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কী আবিষ্কার হয়েছে? জাপানের বিজ্ঞানীদের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে বসানো টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে বিশেষ একটা মহাজাগতিক বস্তু। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ২০২৩ কেকিউ ১৪। আর এর ডাকনাম হয়েছে অ্যামোনাইট। প্রায় সাড়ে ছ’কোটি বছর আগে বিলুপ্ত সামুদ্রিক প্রাণীর ফসিল থেকে এই নামকরণ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে নামজাদা একটি পত্রিকায় অ্যামোনাইট আবিষ্কারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। 
এখন নিশ্চয়ই ভাবছ, অ্যামোনাইট কি কোনও গ্রহ? এটাই কি সেই নবম গ্রহ? নাকি কোনও বামন গ্রহ? উত্তর হল— না। আর এই উত্তরটাই সৌরজগতে নবম গ্রহের হদিশ পাওয়ার সম্ভাবনায় জল ঢেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বলে রাখি, অ্যামোনাইট হল একটা সেডনয়েড। নেপচুন গ্রহের কক্ষপথের বাইরে থেকে যে বস্তুগুলি সূর্যের চারদিকে ঘোরে সেগুলিকে বলা হয় সেডনয়েড। এগুলির কক্ষপথ উপবৃত্তাকার অর্থাৎ লম্বাটে ধরনের। বামন গ্রহ সেডনার কক্ষপথও একই ধরনের। এখনও পর্যন্ত চারটে সেডনয়েডের সন্ধান মিলেছে। 
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অ্যামোনাইটের কক্ষপথ বেশ বিস্ময়কর। সবচেয়ে কাছে এলে সূর্যের থেকে এর দূরত্ব হয় ৬৬ সৌরজাগতিক একক বা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিট (এইউ)। অর্থাৎ পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্বের ৬৬ গুণ। আর সবচেয়ে দূরে থাকলে সূর্য থেকে অ্যামোনাইটের দূরত্ব হয় ২৫২ সৌরজাগতিক একক। তা প্লুটোরও বহু বহু দূরে। এতদিন মনে করা হতো, ওটিই হয়তো লুকনো নবম গ্রহ। এই অনুমানের কারণ হল কুইপার বেল্টের কিছু ছোট বস্তুর বিচিত্র কক্ষপথ। সেডনা সহ আরও ছয়টি এ ধরনের বস্তু লম্বাটে কক্ষপথে ঘুরছে। আর তা দেখে মনে হয়, কোনও একটা বড় কোনও কিছু রয়েছে সেখানে। তাকে কেন্দ্র করেই রয়েছে ওই বস্তুগুলি। তাই ওই ছয় বস্তুর মাঝে নবম গ্রহের সন্ধান মিলতে পারে বলে আশাবাদী অনেক বিজ্ঞানী। কিন্তু অ্যামোনাইট সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে। কারণ, এর কক্ষপথ অন্য সেডনয়েড গুলির মতো নয়। আর তা সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে ঘুরছে। ওই জায়গায় যদি বড় কোনও বস্তু থাকত তাহলে অ্যামোনাইটেরও একই ধরনের কক্ষপথ হতো না। ফলে নবম গ্রহ থাকার সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। 
জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির এক জ্যোতির্বিজ্ঞানীর একটা মন্তব্য বেশ নজর কেড়েছে। তিনি বলছেন, ওখানে একদিন হয়তো সত্যিই একটি গ্রহ ছিল। তারপর কোনও এক সময় তা সৌরমণ্ডল থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছে। সেইজন্যেই সেডনয়েডগুলির কক্ষপথ এমন অদ্ভুত। আর যদি নবম কোনও সত্যিই থাকে, তা হয়তো আরও অনেক দূরে লুকিয়ে। এই রহস্যে মোড়া অঞ্চলের সীমানা কতদূর বিস্তৃত, সঠিকভাবে কে আর তা জানে। আর সেখানে আরও কত কী বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে, তা কে বলতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ