Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জঙ্গিদের হাতে জৈব অস্ত্র তুলে দিচ্ছে পাকিস্তান? মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্টে আশঙ্কার মেঘ, সতর্ক ভারতও

বিশ্বের ১৮৯টি দেশই স্বাক্ষর করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বায়োলজিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনে। অর্থাৎ এইসব রাষ্ট্রের কর্তব্য হল, জৈব অস্ত্র তৈরি, অধিগ্রহণ, সরবরাহ, মজুতদারি এবং প্রয়োগ ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ করা।

জঙ্গিদের হাতে জৈব অস্ত্র তুলে দিচ্ছে পাকিস্তান? মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্টে আশঙ্কার মেঘ, সতর্ক ভারতও
  • ২৭ মে, ২০২৫ ১৫:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিশ্বের ১৮৯টি দেশই স্বাক্ষর করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বায়োলজিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনে। অর্থাৎ এইসব রাষ্ট্রের কর্তব্য হল, জৈব অস্ত্র তৈরি, অধিগ্রহণ, সরবরাহ, মজুতদারি এবং প্রয়োগ ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ করা। ১৯২৫ জেনিভা প্রোটোকল অনুযায়ী জৈব অস্ত্রের প্রয়োগ প্রমাণ হলে আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে সেই রাষ্ট্রকে। কিন্তু জৈব অস্ত্র নিয়ে সন্দেহ, আশঙ্কা, আতঙ্ক আজও সমানভাবে অব্যাহত। আমেরিকার সন্দেহের তালিকায় ইরান, চীন। ভারতের শঙ্কা পাকিস্তানকে নিয়ে। বারবার যাদের দিকে সন্দেহ ধাবিত হয়েছে, সেই চীনের গবেষণাগারগুলি নিয়ে অতি সাম্প্রতিক কোভিড নিয়েও প্রবল সন্দিহান পশ্চিমী রাষ্ট্রগুলি। সেই চীনের সবথেকে ঘনিষ্ঠ অনুগামী রাষ্ট্র হল পাকিস্তান। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, ভারতকে সবথেকে শক্তিশালী শত্রু এবং ভারতের পরমাণু প্রযুক্তিকে প্রধানতম থ্রেট হিসেবে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। তাই চীনের সহায়তায় তারা পরমাণু অস্ত্র গবেষণাকে আরও অত্যাধুনিক করার দিকে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারকেও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি ওই রিপোর্টে। নাম না করলেও এই রিপোর্টে ‘ওয়েপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন’ (ডব্লুএমসি)-এর উল্লেখ যে আদতে জৈব অস্ত্রের দিকেই অঙ্গুলিহেলন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্ট পেয়েছে ভারতও। পাকিস্তান বায়োলজিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনে অন্যতম স্বাক্ষরকারী। তাই সন্দেহ প্রবল হয়েছে যে, ইসলামাবাদ সরাসরি তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মাধ্যমে এই জৈব অস্ত্র ব্যবহার না করে ঘুরপথে জঙ্গিদের হাতেই পৌঁছে দেওয়ার প্ল্যান নিয়েছে। ভারত সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাই বহুগুণ সতর্ক এখন। চলছে নিরন্তর প্রশিক্ষণ। 

Advertisement

ইকনমিক করিডরের অজুহাতে পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বহু বছর ধরে সরাসরি বেজিংয়ের দখলে। সুতরাং চীনের সহযোগিতায় কোথায় যে নতুন পরমাণু অস্ত্র গবেষণাগার, স্টোরেজ এবং জৈব অস্ত্র প্রযুক্তি রয়েছে, সেটা এক বড়সড় প্রশ্ন। পাকিস্তানের কিরানা হিলসে আন্ডারগ্রাউন্ড পরমাণু ফেসিলিটি স্টোরেজ যে ভারতের সাম্প্রতিক অভিযানের টার্গেট ছিল, সেটা নিশ্চিত বিশ্বাস ইসলামাবাদের। তাই তারা এখন আরও মরিয়া। মার্কিন রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তান গোপনে চীন থেকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের ‘ডুয়েল ইউজ’ প্রযুক্তি পাচ্ছে। ট্রানজিট রুট হংকং, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ভারত, ইরান, আফগানিস্তান অক্ষের কাছে ক্রমেই কোণঠাসা ইসলামাবাদ তাই প্রথাগত যুদ্ধের বদলে চেষ্টা চালাতে পারে নিষিদ্ধ পথে আক্রমণ হানার। আর সেই পথ হল জৈব অস্ত্র। জঙ্গিরা এই অস্ত্র প্রয়োগ করলে প্রত্যক্ষভাবে ইসলামাবাদের উপর কোনও আঁচ আসবে না। কারণ, বায়োওয়েপন কনভেনশনের অষ্টম আর্টিকল অনুযায়ী, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ যে কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারে। কিন্তু এই চুক্তি ‘নন-স্টেট অ্যাক্টর’-দের উপর প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে রাষ্ট্রের সংযোগ প্রমাণ করা দুঃসাধ্য।
আন্তর্জাতিক মঞ্চের কাছে এখন দু’টি অস্ত্র সবথেকে উদ্বেগজনক—রাসায়নিক অস্ত্র (কেমিক্যাল ওয়েপন), জৈব অস্ত্র (বায়ো ওয়েপন)। তবে সবথেকে বিপজ্জনক হল ক্ষুদ্রতর কাঠামোর পরমাণু অস্ত্র। আন্তর্জাতিক সিকিওরিটি প্রোটোকলে যার নাম ‘ডার্টি বম্ব’! এর মাধ্যমে ২-৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় গণহত্যা করা যেতে পারে। বহু বছর ধরেই লস্কর-ই-তোইবা এবং জয়েশ-ই-মহম্মদ জৈব অস্ত্র হস্তগত করতে তৎপর। আর আল কায়েদা এবং আইএসের টার্গেট ‘ডার্টি বম্ব’!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ