নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিশ্বের ১৮৯টি দেশই স্বাক্ষর করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের বায়োলজিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনে। অর্থাৎ এইসব রাষ্ট্রের কর্তব্য হল, জৈব অস্ত্র তৈরি, অধিগ্রহণ, সরবরাহ, মজুতদারি এবং প্রয়োগ ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ করা। ১৯২৫ জেনিভা প্রোটোকল অনুযায়ী জৈব অস্ত্রের প্রয়োগ প্রমাণ হলে আন্তর্জাতিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে সেই রাষ্ট্রকে। কিন্তু জৈব অস্ত্র নিয়ে সন্দেহ, আশঙ্কা, আতঙ্ক আজও সমানভাবে অব্যাহত। আমেরিকার সন্দেহের তালিকায় ইরান, চীন। ভারতের শঙ্কা পাকিস্তানকে নিয়ে। বারবার যাদের দিকে সন্দেহ ধাবিত হয়েছে, সেই চীনের গবেষণাগারগুলি নিয়ে অতি সাম্প্রতিক কোভিড নিয়েও প্রবল সন্দিহান পশ্চিমী রাষ্ট্রগুলি। সেই চীনের সবথেকে ঘনিষ্ঠ অনুগামী রাষ্ট্র হল পাকিস্তান। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, ভারতকে সবথেকে শক্তিশালী শত্রু এবং ভারতের পরমাণু প্রযুক্তিকে প্রধানতম থ্রেট হিসেবে বিবেচনা করছে পাকিস্তান। তাই চীনের সহায়তায় তারা পরমাণু অস্ত্র গবেষণাকে আরও অত্যাধুনিক করার দিকে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারকেও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি ওই রিপোর্টে। নাম না করলেও এই রিপোর্টে ‘ওয়েপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন’ (ডব্লুএমসি)-এর উল্লেখ যে আদতে জৈব অস্ত্রের দিকেই অঙ্গুলিহেলন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মার্কিন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্ট পেয়েছে ভারতও। পাকিস্তান বায়োলজিক্যাল ওয়েপন কনভেনশনে অন্যতম স্বাক্ষরকারী। তাই সন্দেহ প্রবল হয়েছে যে, ইসলামাবাদ সরাসরি তাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মাধ্যমে এই জৈব অস্ত্র ব্যবহার না করে ঘুরপথে জঙ্গিদের হাতেই পৌঁছে দেওয়ার প্ল্যান নিয়েছে। ভারত সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাই বহুগুণ সতর্ক এখন। চলছে নিরন্তর প্রশিক্ষণ।



