নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেসিকাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। যদিও বুধবার উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিচারপতি সৌগত ভট্টচার্য প্রশ্ন তুলেছেন, ‘অরূপ বিশ্বাস কি মেসির বাল্যবন্ধু? মেসির এত কাছে কেন গেলেন তিনি?’ উচ্চ আদালতের বক্তব্য স্পষ্ট, গোটা ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের সম্মানহানি হয়েছে।
মেসির ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের অভিযোগের ভিত্তিতে দিনকয়েক আগে অরূপ সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। এরপরই গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় সোমবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ। বিষয়টি নিয়ে রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়ে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তাঁর আইনজীবী কিশোর দত্ত। এদিন সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে আইন মেনে তদন্ত চালিয়ে যাবে তদন্তকারী সংস্থা। ভবিষ্যতে পুলিশ কোনো নোটিস দিলে মামলাকারী তথা অরূপ বিশ্বাসকে হাজিরা দিতে হবে। তবে হাজিরার জন্য ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে। উচ্চ আদালতের আরও নির্দেশ, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে অরূপকে। তিনি যদি নোটিসে সাড়া না দেন, পুলিশ বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পারবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না অরূপ। নিম্ন আদালতে তাঁর পাসপোর্ট জমা রাখারও নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
শতদ্রুর আইনজীবী এদিন দাবি করেন, ৭০ হাজার টিকিট ছাপানো হয়েছিল। অরূপ বিশ্বাস একাই ২২ হাজার টিকিট নিয়েছিলেন তাঁর বিধানসভার জন্য। অনেক ক্লাবকে তিনি টিকিট বিক্রিও করেছেন। গোটা ঘটনা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি ভট্টাচার্য। এদিন শুনানি চলাকালীন ভর্ৎসনার সুরে বিচারপতির প্রশ্ন, ‘অন্য তিন জায়গায় অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে হল, কিন্তু কলকাতায় কেন বিশৃঙ্খল অবস্থা হল? সেদিনের ঘটনায় আর্জেন্তিনীয় ফুটবল তারকা মেসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হয়েছে। মামলাকারী তখন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন। তিনি কেন এমন আচরণ করেছিলেন? সেটিকে কীভাবে বিচার করা হবে?’ আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার জন্য সময়ের আগে মেসি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ওই ঘটনায় রাজ্যের সম্মানহানি হয়েছে। মামলাকারীকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে মানে এই নয় যে, আদালত চোখ বন্ধ করে থাকবে। এই ঘটনায় বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করতে হবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছেন বিচারপতি। চার সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে অনুসন্ধান রিপোর্ট। অরূপ রক্ষাকবচ পেলেও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস পুলিশি হেপাজতেই রয়েছেন। এদিন তাঁকে নিয়ে টেকনিশিয়ান’স স্টুডিওতে যায় নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। সেখানে তল্লাশিও চালানো হয়।