Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিচুতলার ক্ষোভেই ‘পদহীন’ জগন্নাথ?

দলের রাজ্য কমিটিতে কোনও পদই জুটল না রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। বুধবার বিজেপির রাজ্য কমিটি ঘোষণা হতেই দক্ষিণ নদীয়ায় মুখ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে জগন্নাথের ‘অপসারণ’।

নিচুতলার ক্ষোভেই ‘পদহীন’ জগন্নাথ?
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দলের রাজ্য কমিটিতে কোনও পদই জুটল না রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। বুধবার বিজেপির রাজ্য কমিটি ঘোষণা হতেই দক্ষিণ নদীয়ায় মুখ্য আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে জগন্নাথের ‘অপসারণ’। রা঩জ্যে বিধানসভার ভোট ঘোষণা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সেই নির্বাচনে পাশা পাল্টানোর অপেক্ষায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির শক্তপোক্ত গড় হিসেবে পরিচিত রানাঘাটের সাংসদই রইলেন না রাজ্য কমিটির কোনও পদে! একে কার্যত ‘অপসারণ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি উঠে আসছে প্রশ্ন, তবে কি নিচুতলার ক্ষোভের কারণেই পদ গেল জগন্নাথ সরকারের। 

Advertisement

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসনের স্বপ্ন দেখেছিল গেরুয়া শিবির। দিল্লি থেকে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা এসে সেই স্বপ্ন দেখিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশ হতে দেখা যায়, কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে পদ্ম শিবির। ২০০ তো দূরস্থান, একশোর গন্ডিও পেরতে পারেনি বিজেপি। আশির নীচেই থেমে যায় তাদের রাজনীতির রথ। এই অবস্থায় মুখ রক্ষা করেছিল নদীয়া দক্ষিণ। সেখানে সবক’টি আসনেই পদ্ম ফুটেছিল, মুছে গিয়েছিল ঘাসফুল। যদিও পরবর্তী কালে শান্তিপুর এবং রানাঘাট দক্ষিণের উপনির্বাচনে আসনগুলি হারায় বিজেপি। তবুও মতুয়াগড় হিসেবে পরিচিত নদীয়া দক্ষিণই যে এখনও অবধি বিজেপির আশার প্রদীপ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। রানাঘাটের সাংসদ হওয়ার সুবাদে নদীয়া দক্ষিণে বিজেপির ‘মুখ’ ছিলেন জগন্নাথ সরকার। কিন্তু সমস্ত হিসেব নিকেশ ওলট পালট হয়ে যায় বুধবার বিজেপির রাজ্য কমিটি ঘোষণা হওয়ার পরেই। কারণ রাজ্যে সহ সভাপতির তালিকায় এক ডজন নাম থাকলেও, ছিল না জগন্নাথ সরকারের নাম। অথচ শেষ রাজ্য কমিটিতে তিনি ছিলেন অন্যতম রাজ্য সহ সভাপতি। অবাক করার মতো বিষয় হল, শেষ লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক পর্যন্ত সহ সভাপতি হিসেবে রাজ্য কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। কিন্তু ঠাঁই হয়নি রানাঘাটের সাংসদের। অর্থাৎ আপাতত দলে ‘পদহীন’ জগন্নাথ। বিজেপির রাজ্য কমিটির তালিকা প্রকাশের পরেই শুরু হয়েছে জেলার রাজনীতিতে নানা জল্পনা। তার মধ্যে অন্যতম, দলের নিচুতলার একাংশের ক্ষোভের কারণেই কি ‘অপসারিত’ জগন্নাথ সরকার। কারণ জেলা বিজেপির অন্দরে কান পাতলে মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, ‘সাংসদ লবি’ তত্ত্ব। বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, জেলা থেকে নিচুতলা, ‘তাঁর’ পছন্দসই ব্যক্তি বিশেষরাই পদ পেয়েছেন। আর সেই কারণে বাদ পড়তে হয়েছে অনেক যোগ্য নেতাকে। 
রাজ্য কমিটিতে পদ না পাওয়া নিয়ে জগন্নাথ সরকারের দাবি, আমি সাংসদ। ৩০ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি। আমি দলের অনুগত সৈনিক। আমি পদের জন্য নয়, দলের জন্য কাজ করি। দল কখন কাকে কাজে লাগায়, কাকে বসায় এর কোনও ঠিক থাকে না। যাঁরা দল পরিচালনা করেন, তাঁরা যা ভালো বুঝেছেন, তাই করেছেন। আমরা দলের সৈনিক হিসেবে কাজ করি, তাই করে যাব। 
তবে জগন্নাথের ‘অপসারণ’ নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ১৮ জন সাংসদের মধ্যেও মার্জিনে প্রথম ছিলেন। এখন ১২ জনের মধ্যেও প্রথম। তবুও পদ নেই। হায় রে! বিজেপিতে উনি তো বড়ই ‘একা’।  
 জগন্নাথ সরকার। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ