জানাচ্ছেন পিয়ারলেস হাসপাতালের কনসালটেন্ট গাইনিঅঙ্কো সার্জেন ডাঃ অমিত মণ্ডল।
জানাচ্ছেন পিয়ারলেস হাসপাতালের কনসালটেন্ট গাইনিঅঙ্কো সার্জেন ডাঃ অমিত মণ্ডল।
ভারতে মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হওয়া ক্যান্সারের মধ্যে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। অসুখটি কী: ইউটেরাসের মুখের অংশকে বলে সার্ভিক্স। এই অংশটি ইউটেরাসের সঙ্গে ভ্যাজাইনার সংযোগ ঘটায়। সার্ভিক্সের কোষের ক্যান্সারকে বলে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার।
কেন হয়: হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) সংক্রমণ থেকে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার হয়। পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই এই ভাইরাস মহিলাদের শরীরে প্রবেশ করে। সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধযোগ্য। প্রতিরোধের পথ দু’টি—
১. স্ক্রিনিং ২. ভ্যাকসিন।
স্ক্রিনিং: শরীরে এইচপিভি ভাইরাস আছে কি না তা সরাসরি সার্ভাইক্যাল স্মিয়ার বা সারভিক্সের অংশ থেকে রস নিয়ে পরীক্ষা করে জানা যায়। সাধারণত বিয়ে হয়েছে বা সেক্সুয়ালি অ্যাকটিভ মহিলাদের ৩০ বছর বয়সের পরে অবশ্যই এই পরীক্ষা করা দরকার। টেস্ট-এ নেগেটিভ রেজাল্ট এলে পাঁচ বছর পরে ফের পরীক্ষা করাতে হবে। রেজাল্ট পজিটিভ এলে তখন করাতে হয় প্যাপ স্মিয়ার। মোটামুটি এই দু’টি হল স্ক্রিনিং টেস্ট।
রোগের উপসর্গ: মেনোপজের পর রক্তপাত, মেনস্ট্রুয়েশন সাইকেল বাদেও অন্য সময় রক্তপাত, সঙ্গীর সঙ্গে শারীরিক ঘনিষ্ঠতার পর ব্লিডিং। এছাড়া ভ্যাজাইনা থেকে হোয়াইট ডিসচার্জ হলে (কখনও কখনও তা দুর্গন্ধযুক্তও হতে পারে) অবশ্যই সতর্ক হন।
রোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা: প্যাপ স্মিয়ার টেস্ট-এ ক্যান্সার হওয়ার আগের পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিত্সা করিয়ে নিরাময় সম্ভব। রিপোর্টে ক্যান্সার প্রমাণ হলে বায়োপসি করানো হতে পারে।
চিকিৎসা: প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে ৯৫ শতাংশ রোগী পরবর্তী পাঁচ বছর নিশ্চিন্তে জীবন কাটাতে পারেন। তবে পরবর্তী পর্যায়ে রোগ পৌঁছে গেলে চিকিত্সা জটিল হয়। সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপির মাধ্যমে হয় চিকিত্সা।
ভ্যাকসিন: সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রুখতে মেয়েদের ৯-১৪ বছর বয়সের মধ্যে এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। এই বয়সের মধ্যে নিতে হয় টিকার দু’টি ডোজ। না নিতে পারলে ২৬ বছর বয়সের মধ্যেও এই ভ্যাকসিন নিতে পারেন মেয়েরা। আবার ২৬ বছর বয়সের মধ্যে ভ্যাকসিন না নিতে পারলে ৪৫ বছর বয়স পর্যন্তও টিকা নেওয়া যায়। এইসব ক্ষেত্রে টিকার তিনটি ডোজ নিতে হয়।
লিখেছেন সুপ্রিয় নায়েক