দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: ‘এক দেশে ধর্ম। আর এক দেশে নথিপত্র! ভীতি প্রদর্শনের ভাষাটাই শুধু বদলে গিয়েছে।’ রানাঘাটের মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় কান পাতলেই এখন শোনা যাচ্ছে এই কয়েকটা কথা। স্বাভাবিকভাবেই উৎকণ্ঠায় মতুয়া সম্প্রদায় মানুষজনের একটা বড় অংশ। বিজেপির আশ্বাসে আর ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন না তাঁরা।
বাংলায় এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই একটা ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে। দিল্লি থেকে শুরু করে বঙ্গের বিজেপি নেতারা বারবার বলছেন, কোনও হিন্দু মতুয়া-নমঃশূদ্রের নাম বাদ যাবে না। কিন্তু, এটা তো শুধু কথার কথা। কালো টাকা উদ্ধার করে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ফেলার মতো গল্পকথা শোনাচ্ছে! আসলে, ঘর পোড়া গোরু যে সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়! এমন আশ্বাসের বাস্তবতা ঠিক কোথায়? মতুয়া সমাজের ঘরোয়া আলোচনায় উঠে আসছে এই একটাই প্রশ্ন। জুতসই জবাব মিলছে না কোথাও। যেটা জবাব দিতে পারত, সেই সিএএ নিয়েও হতাশার সুর তাঁদের গলায়। সেখানে আবেদন মানেই হাজারো ঝক্কি-ঝামেলা, কাগজপত্রের জটিলতা। সেসব সামলে যদিও বা আবেদন, নাগরিকত্ব প্রদানের গতি অত্যন্ত মন্থর। যা নিয়ে চাপা অসন্তোষ মতুয়া মহলে। বছর ঘুরলেই বিধানসভার ভোট। তার আগে মতুয়াদের একাংশের এহেন জীবন-যন্ত্রণা বুমেরাং হতে পারে গেরুয়া গড়ে। এমনটাই মত রাজনীতির কারবারিদের।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় ধাপে শুনানি। নদীয়া দক্ষিণে লক্ষ লক্ষ ভোটারকে নোটিশ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সবচেয়ে বেশি ভোটার ডাক পেতে পারেন কৃষ্ণগঞ্জ, হাঁসখালি, রানাঘাট ২, রানাঘাট ১, হরিণঘাটার মতো মতুয়া অধ্যুষিত ব্লকগুলি থেকে। অস্বস্তির কাঁটা শুধু এখানেই বিঁধে নেই। খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বাদ পড়তে পারেন অনেকেই। আর সেটা জানা যাবে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশের পর। অর্থাৎ, প্রায় ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। তা হলে সিএএ’তে আবেদন করবেন কবে? তার মধ্যে যদি নির্বাচন ঘোষণা করে দেয় কমিশন? তখন কী হবে? এসব বিবেচনা করে মতুয়া সংগঠনগুলির দাবি, স্রেফ বিজেপি নেতাদের কথার উপর ভরসা করে এখনই নিজেকে শরণার্থী ঘোষণা করে সিএএ’তে আবেদন করাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। দেশের শীর্ষ আদালত সম্প্রতি স্পষ্ট করে দিয়েছে, সিএএ’তে আবেদনকারীরা নাগরিকত্ব না পেলে ভোটার হতে পারবেন না। যা আরও বেশি করে স্নায়ুর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে মতুয়াদের।



