সংবাদদাতা, তপন: বুধবার সকাল থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের রামপুর কর্মতীর্থ ভবন চত্বরে শুরু হয়েছে তত্পরতা। খোলা হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা স্টলগুলি। বসানো হচ্ছে সিসি ক্যামেরা। বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। তারপরেই খবর ছড়িয়ে যায়, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক বাংলাদেশিদের অস্থায়ীভাবে রাখার জন্য এখানেই হবে হোল্ডিং সেন্টার। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, তপনে জেলার হোল্ডিং সেন্টার করা হয়েছে। সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০১৭ সালে পূর্বতন সরকারের আমলে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি হয়েছিল রামপুর কর্মতীর্থ। মোট ৩০টি স্টল তৈরি করে স্থানীয় ৩০ জন যুবকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল ব্যবসার জন্য। কিছুদিন দোকানপাটও চলে স্বাভাবিকভাবে। তবে, ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির সময় কর্মতীর্থটিকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। ২০২১ সালের পর থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনাবেচার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল ওই ভবন। এবার সেই কর্মতীর্থের নতুন পরিচয় হতে চলেছে জেলার হোল্ডিং সেন্টার হিসাবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে আটক কয়েকজন বাংলাদেশিকে এখানে আনার প্রস্তুতি চলছে। বুধবার রাতের মধ্যেই সমস্ত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের অনুমান, বৃহস্পতিবার থেকেই আটকদের এই সেন্টারে রাখা শুরু হতে পারে। সূত্রের খবর, দ্রুত সেখানে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এদিন কর্মতীর্থ চত্বরে দেখা যায় চরম ব্যস্ততা। কেউ মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার স্টল খালি করছেন প্রশাসনের নির্দেশে। স্থানীয় বাসিন্দা সোলেমান সরকার বলেন, এখানে ছেলের নামে একটা স্টল ছিল। কিছু মালপত্র রাখা ছিল। সেসব বের করে নিয়ে যাচ্ছি। শুনছি এখানে বাংলাদেশিদের রাখার জন্য হোল্ডিং সেন্টার হবে।
স্থানীয় যুবক মিজানুর সরকার বলেন, মঙ্গলবারও পুলিশ-প্রশাসন এসেছিল, আজও এসে সব ঘর খালি করতে বলেছে। ধান কেনাবেচার জন্য যে বস্তা বা মালপত্র রাখা ছিল, সব সরানো হচ্ছে। ভিতরে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজও চলছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় আচমকা এই তৎপরতা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রামপুর ও আশপাশে।