


শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। প্রচারে নেমে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। প্রার্থীদের নাম ঘোষণাও শুরু করে দিয়েছে বিভিন্ন দল। এই আবহে এসআইআরে বিচারাধীন ভোটারদের তথ্য নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় শুরু হল নয়া বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, গত বিধানসভা নির্বাচনে যেসব বিধানসভায় বিজেপির ভালো ফল হয়নি, সেখানে মহিলা ভোটারদের বেশি সংখ্যায় বিচারাধীন করা হয়েছে। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলার ‘লক্ষ্মী’-দের টার্গেট করছে। কারণ, এই ভোটব্যাংক বরাবর তৃণমূলের দখলে থেকেছে। পালটা বিজেপির দাবি, ভোটের এত আগে থেকেই বিজেপির ভূত দেখতে শুরু করেছে তৃণমূল।
ভোট ঘোষণার আগে থকেই শাসক-বিরোধী সব পক্ষ নির্বাচনে জয় হাসিলের জন্য অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা ও বিশ্লেষণ শুরু করেছে। আর তা করতে গিয়েই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তৃণমূলের সামনে। যেভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মূলত মহিলা ভোটারদের বিচারাধীন তালিকায় পাঠানো হয়েছে, তাতে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশ নিয়ে আরও একবার সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। এক্ষেত্রে কোন কোন বিধানসভার কথা বলছে তারা? যেমন, সীমান্তের বিধানসভা স্বরূপনগর। এখানে মোট বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩৭৭। এর মধ্যে মহিলা ৮ হাজার ৫৩৬। পার্শ্ববর্তী বাদুড়িয়া বিধানসভার ক্ষেত্রেও চিত্রটা অনেকটা এক। এখানে বিচারাধীন ভোটার ১৯ হাজার ৪১ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৯ হাজার ৮০৮ জন। মিনাখাঁ বিধানসভায় মোট বিচারাধীন ভোটার রয়েছেন ৩২ হাজার ৬১৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৫ হাজার ৩৫৬। মহিলা ভোটার ১৭ হাজার ২৫৬। বারাসত মহকুমার মধ্যে অশোকনগর বিধানসভায় মোট বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ১৮ হাজার ২৮৪। তার মধ্যে ৯ হাজার ২৫১ জন মহিলা। সন্দেশখালি বিধানসভায় মহিলা বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যাটা ১২ হাজার ৭৪৭। তাহলে কি মহিলা ভোট কেটে দিয়ে বিজেপিকে ফায়দা দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন? প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘বিজেপি সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছে বাংলা দখল করতে। কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে মানুষ আছে। এত চক্রান্ত করেও লাভ হবে না। ৪ মে বাংলার মসনদে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ বিজেপি নেতা তাপস মিত্রের পালটা কটাক্ষ, ‘আসলে এবার যে ক্ষমতা চলে যাবে, বুঝে গিয়েছে তৃণমূল। এখন দোষ ঢাকতে এসব বলছে। কিন্তু এবার তৃণমূলের বিসর্জন হবেই।’ প্রসঙ্গত, জেলার তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের মধ্যেও ২৬ জনকে বিচারাধীনের তালিকায় রেখেছে কমিশন। এমন চারজন ভোটার রয়েছেন বনগাঁ উত্তর বিধানসভায়। এটাই জেলায় সর্বোচ্চ।
এমনিতেই মাইক্রো অবজার্ভার থেকে রোল অবজার্ভার নিয়োগ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারাধীন ভোটারদের আবেদন খতিয়ে দেখছেন বিচারকরা। তার মধ্যেই তৃণমূলের এই অভিযোগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।