সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে রহস্য। বর্ষীয়াণ এই রাজনীতিকের আত্মঘাতী হওয়ার নেপথ্যে ফোনে কোনওপ্রকার হুমকি বা ব্ল্যাকমেল করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আশিসবাবুর ফোনের কল ডিটেইলস ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট আতসকাচের তলায় রেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল।
উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের কাজ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রয়াত প্রাক্তন বিধায়ক। তিনি লিখেছেন, ‘আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। প্ল্যান পাস বা নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যু করার এক্তিয়ারও আমার ছিল না। সাধারণ মিটিং ছাড়া আমার আর কোনো দায়িত্ব ছিল না। অথচ, আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।’ এর পরেই ক্ষোভের সঙ্গে নোটে তিনি লেখেন, ‘রাজনীতিতে আসাটাই আজ ভুল মনে হচ্ছে।’
পালাবদলের পর থেকে কার্যত নিজেকে গৃহবন্দি করে নিয়েছিলেন আশিসবাবু। তা হলে কী ফোনে কেউ তাঁকে টিআরডিএ নিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন বা হুমকি দিয়েছিলেন। রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সন্দেহের সুরে জানিয়েছেন, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত কারও ফোন বা মেসেজ পেয়ে থাকতে পারেন আশিসবাবু। ব্ল্যাকমেল করা হতে পারে। সেগুলো পুলিশ দেখবে। কারণ, বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব রচনা করেছিলেন আশিস। শুভেন্দুর দাবি, এখন তাঁকে ফাঁসানোর জন্য কোনও হুমকি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ জন্য আশিসবাবুর মোবাইল পরীক্ষা করবে পুলিশ। পাশাপাশি সুইসাইড নোটটি আশিসবাবুরই লেখা কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই চিঠি ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই পুলিশের পক্ষ থেকে আশিসবাবুর স্ত্রী সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু জেলা পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ বলেন, ‘তিনি ফোনটি দিতে চাইছেন না। আমরা চেষ্টা করছি।’ এদিকে এদিন দুপুরে আশিসবাবু বাড়ি লাগোয়া যে কার্যালয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় লাইনলের দড়ি জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন, সেই ঘরে তদন্ত চালায় চার সদস্যর ফরেন্সিক দল। তাঁরা ওই ঘর থেকে হাতের ছাপ সহ বেশ কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। প্রয়াত বিধায়কের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ফরেন্সিক দল জেঠুর মোবাইল ফোন থেকে সমস্ত কল ডিটেলস, হোয়ার্টসঅ্যাপ চ্যাট, মেসেজ, ছবি সহ তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন। এছাড়া জেঠুর লেখা বেশি কিছু কাগজগত্র তাঁরা নিয়ে যান।’ পুলিশ সূত্রের দাবি, সেটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবেন উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট আশিসবাবুর লেখা কিনা। অন্যদিকে এদিন আশিসবাবুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রামপুরহাট কেন্দ্রেরবিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা, দলের জেলা সভাপতি উদয়শংকর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তিনি পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়ে ধ্রুব সাহা বলেন, আশিসবাবু দুর্নীতি করেছেন তা আমি কখনো বলিনি, তবে টিআরডিএ যে দুর্নীতি হয়েছে তা সত্য। আর এই দুর্নীতি হয়েছে বলেই আজ নয়জন পর্যটক আগুনে পুড়ে মারা গেলেন। সময় কথা বলবে। প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলছেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা ও বিজেপি নেতৃত্ব। -নিজস্ব চিত্র