Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গচ্ছিত সব টাকা বৈধ তো? পুলিসকে দিয়ে যাচাই করতে সরকারি অ্যাকাউন্টে পাঠান! ডিজিটাল অ্যারেস্টের নয়া ফাঁদ

‘আপনি আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত। আপনার অ্যাকাউন্টে প্রচুর বেআইনি লেনদেন হয়েছে। কী করে হল এসব?’ ভিডিও কলে এক ‘পুলিস অফিসার’ জোর ধমক দিচ্ছেন এক প্রৌঢ়কে।

গচ্ছিত সব টাকা বৈধ তো? পুলিসকে দিয়ে  যাচাই করতে সরকারি অ্যাকাউন্টে পাঠান! ডিজিটাল অ্যারেস্টের নয়া ফাঁদ
  • ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘আপনি আর্থিক তছরুপের সঙ্গে যুক্ত। আপনার অ্যাকাউন্টে প্রচুর বেআইনি লেনদেন হয়েছে। কী করে হল এসব?’ ভিডিও কলে এক ‘পুলিস অফিসার’ জোর ধমক দিচ্ছেন এক প্রৌঢ়কে। হাতে এক গুচ্ছ কাগজপত্র তুলে ওই ‘অফিসার’ বলছেন, ‘এই দেখুন, সব কাগজপত্র আমাদের কাছে।’ প্রৌঢ়ের হাত-পা তখন থরথর করে কাঁপছে। ‘স্যর, আমার অ্যাকাউন্টে তো কোনও বেআইনি লেনদেন হয়নি।’ ‘থামুন, আমাদের কাছে নথি আছে’। আরও একবার ধমক দিলেন সেই ‘পুলিস অফিসার’। একই মেজাজে তিনি বলে চললেন, ‘আপনার ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকা যে বৈধ, তা দ্রুত যাচাই করতে হবে’। প্রৌঢ়ের আকুতি, ‘কীভাবে হবে স্যর?’ পুলিস অফিসার কল হোল্ডে নিলেন। বললেন, ‘সিনিয়ার অফিসার বলে দেবেন।’ ভিডিও কলে বদলে গেল মুখ। অন্য এক অফিসার এসে বললেন, ‘আপনার গচ্ছিত টাকা যে বৈধ, তা পুলিসকে দিয়ে যাচাই করতে একটি সরকারি অ্যাকাউন্টে সমস্ত টাকা পাঠাতে হবে। আমরা যাচাই করে দেখে নেব। যদি কোনও বেআইনি লেনদন না পাওয়া যায়, তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আপনার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা রিভার্সড অর্থাৎ, পুনরায় ক্রেডিট হয়ে যাবে’। এই কথা শুনে সমস্ত টাকা ‘অফিসার’দের দেওয়া নম্বরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন প্রৌঢ়। তারপরই ভিডিও কল বন্ধ। ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও পাঠানো টাকা ফেরত আসেনি!

Advertisement

আসলে তাঁরা কেউ পুলিস অফিসার ছিলেন না। তারা ছিল প্রতারক। পুলিসের পোশাক করে ডিজিটাল অ্যারেস্টের নামে এমনই নয়া ফাঁদ পেতেছে তারা। যেখানে টাকা যাচাই করানোর নামে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করছে তারা। তাই এই ধরনের ভিডিও কল এলে, সচেতন থাকার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিস ও সাইবার বিশেষজ্ঞরা। পুলিসের দাবি, ডিজিটাল অ্যারেস্টেও পুলিসের পোশাক পরে আইনের ভয় দেখানো হয়। তারপর মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হয়। এই নতুন ফাঁদে প্রতারকরা গ্রাহকদের সম্মোহিত করে টাকা যাচাই করানোর জন্য রাজি করিয়ে ফেলছে।
কেস হিস্ট্রিতে দেখা গিয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রৌঢ় বা প্রবীণ নাগরিকরা এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এ রাজ্যের অনেকেই এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণীরাও প্রতারিত হচ্ছেন। তবে, সংখ্যায় কম। কারণ, তাঁরা সহজেই বুঝতে পারছেন, এটি প্রতারণা চক্র। কিন্তু, বয়স্করা সত্যি ‘পুলিস অফিসার’ ভেবে ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন। পুলিস জানিয়েছে, অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত টাকা বৈধ কি না, যাচাই করার জন্য কোনও সরকারি অ্যাকাউন্ট নেই। তাই কেউ এই ধরনের প্রস্তাব দিলে সরাসরি প্রত্যাখান করুন। প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম থানার সহায়তা নিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ