নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: রাজ্যজুড়ে ভুয়ো ভোটার নিয়ে সরগরম রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে এবার এক বৃদ্ধের ভোটার কার্ডে ‘ভূতুড়ে মেয়ে’র হদিশ। এই ঘটনায় হতবাক বারাসতের ওই প্রবীণ দম্পতি। বিষয়টি জানাজানি হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তদন্ত চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ ওই ব্যক্তি।
জানা গিয়েছে, বারাসত এক নম্বর ব্লকের ছোট জাগুলিয়া পঞ্চায়েতের মণ্ডলগাঁথির বামনপাড়ার ২৬ নম্বর পার্টের বাসিন্দা বাসুদেব রায়। তাঁর দুই মেয়ে যুথি ও মুক্তার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। জাগুলিয়ার বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে থাকেন। সপ্তাহখানেক আগে বাসুদেববাবুকে পোস্ট অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁর মেয়ের ভোটার কার্ড এসেছে। নিয়ে যেতে হবে। পোস্ট অফিসে গিয়ে বাসুদেব দেখেন, কার্ডে পিতার জায়গায় তাঁর নাম লেখা রয়েছে। আর কার্ডটি জ্যোতি রায় নামে এক মহিলার। যেখানে জ্যোতির বাবা বলে পরিচয় রয়েছে বাসুদেববাবুর। তা দেখে যারপরনাই বিস্মিত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। ভূতুরে নাম দেখে ভয়ও পেয়ে যান। কার্ডটি তিনি নেননি। তারপর ২৬ নম্বর পার্টের ভোটার লিস্ট জোগাড় করেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট পার্টে বাসুদেব রায় নামে ভোটার হিসেবে কেবলমাত্র তাঁর নামই রয়েছে। তাহলে কি করে বাসুদেব রায় নাম ব্যবহার করে জ্যোতি রায় নামে একটি নতুন কার্ড তৈরি হল? আরও ধন্ধে পড়ে যান বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ‘২৬ নম্বর পার্টে আমি ছাড়া বাসুদেব রায় নামে কোনও ভোটার নেই। বুঝতে পারছি না আমার ভূতুরে মেয়ে জ্যোতি কোথা থেকে এল? কার্ডে জ্যোতি রায়ের বয়স ১৮ বছর লেখা। তাঁর যে ছবি কার্ডে দেওয়া, সে ছবি আমি দেখিনি। মেয়েটিকেও কোনওদিন চাক্ষুষ করিনি এলাকায়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বারাসতের এই ‘ভূতুরে ভোটার’ ভুয়ো ভোটার বিতর্কে নয়া মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।