তেহরান: ‘আমেরিকা নয়, যুদ্ধ শেষ করব আমরাই! এই হামলা-পালটা হামলার খেলা কখন শেষ হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে তেহরান।’ মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিতকে নস্যাৎ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ইরান। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ফোনের পর সোমবার পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে সুর কিছুটা নরম করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদিও তাতে থোড়াই কেয়ার খামেনেইয়ের দেশের। ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘ননসেন্স’ আখ্যা দিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি—‘যদি আমেরিকা ও ইজরায়েল হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে পশ্চিম এশিয়া থেকে এক লিটার তেলও বেরোতে দেব না।’
ইরানের এমন দৃঢ় অবস্থানের পর অবশ্য ভোল বদলে ফেলেন ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালীতে তেলের সরবরাহ বন্ধ করলে হামলা ২০ গুণ তীব্র করার হুমকিও দেন। আর এই হুমকি-পালটা হুমকির মধ্যেই ১১তম দিনে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এদিনই সবচেয়ে তীব্র আঘাত হানা হয়েছে ইরানে। ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বাহিনীও। এপর্যন্ত অন্তত ৪৬০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেহরান প্রশাসন। প্রত্যাঘাত করেছে তারাও। রবিবার থেকে আইআরজিসি অন্তত হাজার কেজি বিস্ফোরক বোঝাই মিসাইল ছুড়তে শুরু করেছে। যদিও বেলা গড়াতেই যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি। বলেছেন, ‘যে কোনো মধ্যস্থতায় শর্ত একটাই— শুধু সংঘর্ষবিরতি নয়, হামলা পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।’
ইরানের এদিনের হুমকিতে অবশ্য জ্বালানি সংকটের অশনি সংকেত বিশ্বে। সোমবারই আমেরিকার বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সেনেটর ও ট্রাম্পের সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘ভেনেজুয়েলার পর এবার ইরানে আঘাত হেনে পশ্চিম এশিয়ার তেল সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণই টার্গেট। এই লক্ষ্য পূরণ হলেই টন টন অর্থ কামাবে আমেরিকা।’ তিনি একথা বলার কয়েক ঘণ্টা পরই মায়ামির গল্ফ ক্লাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। বলেন, ‘কিছু দুষ্টকে সরাতে আমরা পশ্চিম এশিয়ায় সফর করেছি। আমার মনে হয়, এটা স্বল্প সময়ের সফরই হবে।’ সেই সম্ভাবনা অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি সেনার মুখপাত্র। তেল নিয়ে তেহরানের পালটা হুমকির জবাবে ট্রাম্পও সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্জে ওঠেন, ‘মৃত্যু, আগুন আর ক্ষোভের রাজত্ব কায়েম হবে ইরানে। তবে প্রার্থনা করছি, এমনটা যাতে না হয়। এটাই হবে চীন এবং হরমুজ ব্যবহারকারী সমস্ত দেশের প্রতি আমেরিকার উপহার।’
কথা রাখবেন ট্রাম্প? নাকি জ্বালানি নিয়ে আরও ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হবে গোটা বিশ্ব? সবই এখন সময়ের হাতে।