নয়াদিল্লি: হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এখন সম্পূর্ণভাবে আমাদের নৌসেনার দখলে। এখান দিয়ে কোনো জাহাজ এগনোর চেষ্টা করলেই মিসাইল ও ড্রোন হামলা চলবে। জ্বালানি সরবরাহের সংকট আরও বাড়িয়ে হুমকি ইরানের এলিট বাহিনী আইআরজিসি-র। তাদের বক্তব্য, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার বিরুদ্ধে একমাত্র চীন সরব হয়েছে। তাই ‘কৃতজ্ঞতা’ হিসাবে শুধুমাত্র চীনা জাহাজকে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হবে। অন্য কোনো দেশের ট্যাঙ্কারকে এগতে দেখলেই হবে হামলা। ইরানের এই হুমকির জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ। এর ফলে পারস্য ও ওমান উপসাগর সহ ওই অঞ্চলের সমুদ্রপথে আটকে পড়েছে ৩৭টি ভারতীয় জাহাজ। সরকারি সূত্রে খবর, ভারতের পতাকাবাহী এই জাহাজগুলিতে রয়েছেন সব মিলিয়ে এক হাজার ১০৯ জন নাবিক। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে স্বাভাবিকভাবেই আটকে পড়া এই ভারতীয় জাহাজগুলি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে এই আতঙ্কের মধ্যেই আসরে নেমেছেন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির স্বাভাবিক প্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রয়োজনে তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে প্রহরা দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করাবে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ওই অঞ্চলে আটকে পড়া জাহাজগুলি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহতই। হরমুজ প্রণালীতে বিভিন্ন বিদেশি ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলার জেরে ইতিমধ্যেই অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। এই অবস্থায় ৩৭টি ভারতীয় জাহাজের আটকে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে নয়াদিল্লির। পরিস্থিতির উপর অনবরত নজর রাখছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজিএস)। বিভিন্ন জাহাজ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগও রাখছে তারা। পাশাপাশি জাহাজ মন্ত্রকের তরফে একটি বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে। জাহাজমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল জানিয়েছেন, ভারতীয় নৌসেনা, বিদেশ মন্ত্রক, আইএফসি-আইওআর, মেরিটাইম রেসকিউ কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) ও বিভিন্ন ভারতীয় দূতাবাস সমন্বয় রেখে কাজ করছে।