


জেনেভা: কয়েক দিন আগে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করেছে ফিফা। আর সেই শান্তির দূতই ইরানকে আমেরিকায় খেলতে না আসার ‘হুমকি’ দিয়েছেন। পালটা তোপ দেগেছে ইরানের ফুটবল সংস্থাও। তাদের বক্তব্য, ‘আমরা নিজের যোগ্যতা বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছি। তাই আমাদের বাদ দেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই। বরং নিরাপত্তা দিতে না পারা আমেরিকার থেকে আয়োজনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হোক।’
আসলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের জেরেই এই যাবতীয় অনিশ্চয়তা। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলের সংঘতা এখন আর আঞ্চলিক সীমার মধ্যে আটকে নেই, পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বস্তরেও। প্রভাব পড়ছে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে। আগামী ১১ জুন মেগা আসরের ঢাকে কাঠি পড়বে। মেক্সিকো, কানাডার পাশাপাশি আমেরিকা আয়োজক দেশ হওয়াতেই যত বিপত্তি। গত সপ্তাহে আটলান্টায় বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সভাতেও অনুপস্থিত ছিল ইরান। এরপর অবশ্য ভিন্ন বিবৃতি দেন ফিফা প্রেডিডেন্ট ইনফানতিনো। তাঁকে নাকি ট্রাম্প আশ্বস্ত করেছেন, ইরানের অংশগ্রহণে কোনও অসুবিধা হবে না। তবে বুধবার ইরানের টেলিভিশনে ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘যে দুর্নীতিগস্ত সরকার (আমেরিকা) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, সে দেশে কোনওভাবেই খেলতে যাবে না জাতীয় দলের ফুটবলাররা।’ ট্রাম্পও সুর বদলাতে বিন্দুমাত্র সময় নেননি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, ‘ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। তবে ব্যক্তিগত পরামর্শ, নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ইরানের ফুটবলারদের আমেরিকায় আসা উচিত হবে না।’ এই বক্তব্যের জবাবও দিয়েছে ইরান। তাদের ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘বিশ্বকাপ একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। এর নিয়ামক সংস্থা ফিফা। কোনও ব্যক্তি বা দেশ নয়। আর ফুটবলারদের দুরন্ত পারফরম্যান্সে সবার আগে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরান। তাই মেগা টুর্নামেন্ট থেকে ইরানকে বাদ দেওয়ার ক্ষমতা নেই কারো। বরং বাদ দেওয়া হোক সেই দলকে, যারা আয়োজক হয়েও বাকি দলগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।’ এমন পরিস্থিতিতে জল কোন দিকে গড়ায় সেটাই দেখার! ইরান ফিফা র্যাংকিংয়ে ২০ নম্বরে রয়েছে। এই নিয়ে টানা চারবার বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই তাদের বাদ দিয়ে মেগা আসর আয়োজন করলে মুখ পুড়বে ফিফার।