


নিউ ইয়র্ক ও তেহরান: ১৩ দিন ধরে ইরানে লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তেহরানে মিসাইল হানায় নিহত হয়েছেন সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। মৃত আরও ডজনখানেক শীর্ষ নেতা-মন্ত্রী, সামরিক কর্তা-ব্যক্তি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। তা সত্ত্বেও টলানো যাচ্ছে না ইরানকে। সেদেশের শাসন ব্যবস্থা এখনই ভেঙে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। ট্রাম্প সরকারের কাছে এই মর্মে রিপোর্ট দিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা রয়টার্সের দাবি, একাধিক গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছে যে ইরানের জনগণের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুণ্ণ রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন ইজরায়েলের সেনাকর্তারাও। তাঁদেরও মতে, বর্তমানে ইরানের ধরাশায়ী হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি সেদেশে পালাবদল হওয়ারও পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
তাহলে যুদ্ধ থামবে কবে? আপাতত এই প্রশ্নের উত্তরের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। যুদ্ধ শুরুর মাত্র ছ’দিনের মধ্যেই ভারতীয় মুদ্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে আমেরিকা। ইরানও প্রত্যাঘাতের পাশাপাশি তেল সরবরাহের রুট হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। বিপাকে পড়ে স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার দাবি করেছেন, খুব তাড়াতাড়ি এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। কারণ, বোমা মেরে ধ্বংস করার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই ইরানে। তবে তেহরান এখনও অনড়। সংঘাত থামানোর জন্য এদিন তিন দফা শর্ত রেখেছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে ‘ন্যায্য অধিকার’ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভবিষ্যতে যে আর আক্রমণ করা হবে না, সেই ‘গ্যারান্টি’ দিক আমেরিকা ও ইজরায়েল। একইসঙ্গে এই যুদ্ধের জন্য ইরানের যা কিছু ধ্বংস হয়েছে, সেজন্য ক্ষতিপূরণ।
এক্স হ্যান্ডলে পেজেশকিন লিখেছেন, ‘রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইরান এই গোটা অঞ্চলে শান্তি চায়। ইজরায়েল ও আমেরিকা যে যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়েছে, তা শেষ করার একমাত্র রাস্তা— ইরানের ন্যায্য অধিকারকে মান্যতা দেওয়া, ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর হামলা করা হবে না, সেই বিষয়ে গ্যারান্টি দেওয়া।’ সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সংঘর্ষ থেমে যাওয়ার পরেও ইজরায়েল ফের হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা তেহরানের। আর সেই কারণেই চাওয়া হচ্ছে ‘গ্যারান্টি’।
তেহরানের এই প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকা বা ইজরায়েলের তরফে কিছু বলা হয়নি। তবে জানা গিয়েছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত মাসে সংঘাত শুরুর সময়ই দেশের বিভিন্ন এজেন্সিকে ‘কনফিডেন্সিয়াল অ্যালার্ট’ পাঠিয়েছিল মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই। তাতে সাফ জানানো হয়, প্রত্যাঘাত হিসাবে যে কোনো সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় ড্রোন হামলা করতে পারে ইরান। বুধবারই এই তথ্য সামনে এনেছে। অর্থাৎ, তেহরানের শক্তি সম্পর্কে একেবারেই অন্ধকারে ছিল না ওয়াশিংটন। তা সত্ত্বেও খামেনেইয়ের দেশকে বাগে আনা যায়নি এই দু’সপ্তাহে। এই পরিস্থিতিতে গর্জে উঠেছেন ইরানের নবনির্বাচিত ‘সুপ্রিম লিডার’ মোজতবা খামেনেই। এদিন সন্ধ্যায় টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধই থাকবে। পশ্চিম এশিয়ার সর্বত্র মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা জারি রাখবে ইরান। তবে প্রতিবেশী দেশগুলির আশঙ্কার কোনো কারণ নেই। কারণ, তেহরানের টার্গেট শুধু মার্কিন ঘাঁটিগুলিই। মোজতবার এই বক্তব্য জ্বালানি সংকট আরও তীব্র আকার নেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।