


নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরাতে ভারত বৃহত্তর ভূমিকা পালন করুক। এমনই মন্তব্য করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ব্রিকস দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লিতে এসেছেন তিনি। এক সাংবাদিক বৈঠকে আরাঘচি বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কিছুই সামরিক পদ্ধতিতে সমাধান করা যাবে না। হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচলে সহায়তা করতেও ইরান প্রস্তুত বলে জানান আরাঘচি। তবে, হরমুজের বর্তমান পরিস্থিতি যে অত্যন্ত জটিল, সে কথাও মেনে নিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংকটের ক্ষেত্রে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। আরাঘচি বলেন, ‘ভারতের তরফে যে কোনো গঠনমূলক ভূমিকাকে আমরা স্বাগত জানাব।’ আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিশ্বাস করার জন্য ইরানের কাছে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আবার ইরানকে বিশ্বাস করার জন্যও আমেরিকার কাছে যথেষ্ট কারণ আছে। আরাঘচির মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতার চেষ্টা এখনও ব্যর্থ হয়ে যায়নি। ইরান কখনই পারমাণবিক অস্ত্র চায়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সংঘাত থামাতে ভারতকে মধ্যস্থতাকারী করার পক্ষে সওয়াল করেছে রাশিয়াও। ব্রিকস সম্মেলনে সাংবাদিক বৈঠকে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, ভারতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার বিশাল। সেই অভিজ্ঞতা ইরান ও তাদের ‘আরব বন্ধু’দের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে। লাভরভ বলেন, জরুরি ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের জন্য আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান সাহায্য করেছে। কিন্তু দুই দেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি মধ্যস্থতাকারী চায়, তাহলে ভারত এই ভূমিকা পালন করতে পারে। এদিকে, শুক্রবার ব্রিকস সম্মেলনের বাইরে আরাঘচির সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক, পশ্চিম এশিয়ায় সংকট এবং বিশ্বে তার প্রভাব নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।