


নয়াদিল্লি: বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। এই নামের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার অজানা রহস্য। আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম প্রান্তের এই অংশে উধাও হয়ে গিয়েছে বহু জাহাজ এবং বিমান। কেন? কীভাবে? সেই উত্তর আজও মেলেনি। এর পাশাপাশি গত কয়েক দশক ধরে ভূতাত্ত্বিকদের ভাবিয়েছে আরও একটি বিষয়। বারমুডার আগ্নেয়গিরিগুলি গত ৩ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ক্রিয় থাকার পরেও কীভাবে এটি সমুদ্রতল থেকে এত উঁচুতে অবস্থিত! এর নেপথ্য কারণ এতদিন পর্যন্ত কেউ উন্মোচন করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার একদল বিজ্ঞানী এই রহস্যের সমাধান খুঁজে পেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, রহস্যের সমাধান লুকিয়ে রয়েছে ওই দ্বীপের গভীরে।
কার্নেগি সায়েন্সের সিসমোলোজিস্ট উইলিয়াম ফ্রেজার ও ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেফ্রি পার্কের নেতৃত্বে ওই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বারমুডার মতো ভূতাত্ত্বিক গঠন পৃথিবীর আর কোথাও নেই। হাওয়াইয়ের মতো বেশিরভাগ আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জ বিজ্ঞানীদের ভাষায় ‘ম্যান্টল প্লুম’-এর উপর গঠিত হয়। যা আদতে ম্যান্টল স্তর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত ও ভাসমান শিলার এক সুবিশাল স্তম্ভ। এটি যখন উপরের দিকে উঠে আসে, তখন তা সমুদ্রতলকে স্ফীত করে তোলে ও আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেকটোনিক প্লেট প্লুম থেকে দূরে সরে গেলে ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ কমে এলে এই অংশগুলি আবার নীচে ডুবে যায়। কিন্তু বারমুডার নীচে এমনটা হয়নি। কার্নেগি সায়েন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, বারমুডা এখনও একটি বড়ো স্ফীত অঞ্চলের উপর অবস্থান করছে, যা আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচু।
সেই রহস্য খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড়োমাপের ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট ভূকম্পীয় তরঙ্গ ব্যবহার করেন ফ্রাজের ও পার্ক। এই তরঙ্গ পৃথিবীর ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় তা যে সমস্ত পদার্থের মধ্যে দিয়ে যায়, সেগুলির ঘনত্ব ও গঠনের উপর এর গতি বাড়ে বা কমে। যেমনভাবে বিভিন্ন পদার্থের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দের তীক্ষ্ণতার পরিবর্তন হয়। বারমুডার একটি সিসমিক স্টেশন থেকে পাওয়া রেকর্ডিং বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দ্বীপটির প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত পৃথিবীর ভিতরের একটি ছবি তৈরি করতে পেরেছেন।
তাঁরা অপ্রত্যাশিতভাবে মহাসাগরীয় ক্রাস্টের নীচে ১২ মাইলেরও বেশি পুরু একটি শিলাস্তর খুঁজে পান। এই শিলাটি তার চারপাশের ম্যান্টেলের চেয়ে কম ঘনত্বের হওয়ায় এটি অস্বাভাবিকভাবে ভাসমান প্রকৃতির। নীচ থেকে উপরে উঠে আসা শিলাস্তরের পরিবর্তে এই হালকা শিলাটি ভেলা হিসাবে কাজ করে, যা সমুদ্রতল ও বারমুডাকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
এই গবেষকদের মতে, কয়েক কোটি বছর আগে ‘আন্ডারপ্লেটিং’ নামে পরিচিত এই স্তরটি গঠিত হয়েছিল। ওই কার্বন-সমৃদ্ধ গলিত ম্যান্টল শিলা ভূত্বকের তলদেশে ঢুকে সেখানেই ঠান্ডা হয়ে জমে যায়। গোটা বিষয়টি সহজ করে বোঝানোর জন্য ফ্রাজের বলেন, ‘ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে গবেষণার জন্য বারমুডা দারুণ একটা জায়গা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখানে অত্যন্ত গাঢ় আন্ডারপ্লেটিং দেখেছি, যা অধিকাংশ ম্যান্টল প্লুম অঞ্চলেই দেখা যায় না।