


মানামা: পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিনঘাঁটি গুলিকে টার্গেট করা হবে। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের আবহে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। সেই মতোই শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার প্রত্যাঘাতে একের পর এক সেনাঘাঁটিতে হামলা চালাল খামেনেইয়ের দেশ। সেই তালিকায় রয়েছে বাহরিনে মানামা শহরের জুফাইর এলাকায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও। ইরানের হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছে বলে খবর। বাহরিনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার বিবৃতি দিয়ে ইরানের হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই হামলাকে দেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত বলে জানিয়েছে বাহরিন।
এই পঞ্চম নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মূল নৌঘাঁটি। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর, ওমান উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় নজরদারির পাশাপাশি আমেরিকার শত্রুদেশের উপর হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয় এই ঘাঁটি। এর আওতাধীন এলাকা প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গমাইল। ইরান থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিতে সর্বদা আট হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে।
সুয়েজ খাল ও বাব আল-মানদেব প্রণালীর মতো সমুদ্র বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ চোক পয়েন্টে নজরদারি চালানো হয় এই নৌবহরটির মাধ্যমে। গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের ২০ শতাংশ রপ্তানি হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান এই প্রণালী কোনওভাবে স্তব্ধ করে দিলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়োসড়ো ধস নামার আশঙ্কা। ওই সমুদ্র পথে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ এই পঞ্চম নৌবহর।
ভূরাজনৈতিক দিক থেকে বাহরিনের এই মার্কিন ঘাঁটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এখান থেকে পশ্চিম এশিয়ার যে কোনও অঞ্চলে দ্রুত হামলা করা যায়। সেই কারণেই তেহরান প্রথমেই এই ঘাঁটিকে নিশানা করল বলে মনে করা হচ্ছে।